অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজা উপত্যকায় কাতারের ত্রাণ সহায়তা পুনরায় চালু করায় অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইল। জাতিসঙ্ঘ ও কাতারের সাথে এক চুক্তির পর এই ভূখণ্ডে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর অনুমোদন দেয়া হয় বলে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন।

এর আগে গত মে মাসে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সাথে ইসরাইলের ১১ দিনের সংঘর্ষে কাতারের নিয়মিতভাবে দিয়ে আসা এই ত্রাণ সহায়তা যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয় ইসরাইল।

বেনি গান্টজ তার বিবৃতিতে বলেন, কাতারের সাথে একত্রে তিনি এক কৌশল প্রতিষ্ঠা করবেন যাতে করে ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা রক্ষার সাথে সাথে প্রকৃত অভাবগ্রস্তদের কাছে এই অর্থ পৌঁছায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলের নজরদারির ভেতর গাজার নিয়মিত ত্রাণ গ্রহীতাদের কাছে তাদের ব্যাংক একাউন্টে জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে কাতারের এই অর্থ সহায়তা পৌঁছাবে।

মে মাসে যুদ্ধের আগে তিন কোটি ডলারের এই সহায়তা নগদ অর্থে ইসরাইলি ভূখণ্ড দিয়ে গাজায় প্রবেশ করতো।

ইসরাইলি অবরোধের জেরে গাজায় দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বাড়ায় সাম্প্রতিক কয়েক বছর এই ভূখণ্ডের বিপুল বাসিন্দাকে অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছে কাতার।

যুদ্ধের সময় গাজায় অর্থ সহায়তা দেয়া বন্ধ করার পর ইসরাইল দাবি করছে, ত্রাণ সহায়তার এই অর্থ যাতে হামাসের কাছে পৌঁছাতে না পারে, তাই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

হামাস এর মধ্যেই কাতারের দেয়া ত্রাণের এই অর্থে হস্তক্ষেপ না করার কথা জানিয়েছে।

অধিকৃত জেরুসালেমের শেখ জাররাহ মহল্লা থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে ইহুদি বসতি স্থাপনে গত ২৫ এপ্রিল ইসরাইলি আদালতের আদেশের জেরে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে পরপর কয়েক দফা মসজিদুল আকসায় হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। ৭ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত এই সকল হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জাতিসঙ্ঘের মানবিক সাহায্য বিষয়ক দফতর ইউএনওসিএইএ।

মসজিদুল আকসা চত্ত্বরে মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মসজিদ থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে ইসরাইলকে আলটিমেটাম দেয় গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর গাজা থেকে ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামাস রকেট হামলা শুরু করে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ডে মোট চার হাজার তিন শ' ৬০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমে বেশিরভাগ রকেট ধ্বংস করা হলেও বেশ কিছু রকেট ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে।

ইসরাইল ভূখণ্ডে হামাসের রকেট হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মে রাত থেকেই গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল।

গাজায় ইসরাইলের টানা ১১ দিনের আগ্রাসনের পর ২০ মে রাতে ইসরাইল ও হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণা দেয়। মিসরীয় উদ্যোগে এই যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টায় ইসরাইলি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ২১ মে সকাল থেকে তা কার্যকর হয়। ১১ দিনের এই যুদ্ধে অন্তত ২৫০ ফিলিস্তিনি ও ১৩ ইসরাইলি নিহত হয়।

সূত্র : আলজাজিরা