ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হ্যারজগ বলেছেন, তার দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তায় সমর্থন দিয়ে যাবে। একইসাথে আঞ্চলিক আরব দেশগুলোকে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার দুই দিনের সরকারি সফরে সংযু্ক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে গিয়ে দেশটির ডি ফ্যাক্টো শাসক ও আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সাথে বৈঠকে এই কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে হ্যারজগ বলেন, ‘আমরা আপনাদের নিরাপত্তা চাহিদার প্রতি পূর্ণ সমর্থন করছি। আমাদের এই অঞ্চলের শান্তি কামনাকারী জনগণকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়ার পন্থা সম্পর্কে আলোচনার জন্যই আমরা এখানে বসেছি।’

অপরদিকে শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ বলেন, ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির ক্ষেত্রে হুমকির বিষয়ে ‘একই দৃষ্টিভঙ্গি’ ধারণ করে।

বৈঠকের পর ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট তার টুইটার একাউন্টে বৈঠকের ছবিসহ এক বার্তা টুইট করেন। এতে তিনি লিখেন, ‘শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের নিজ প্রাসাদে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য তার কাছে কৃতজ্ঞ। যুবরাজ ও অন্য নেতাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রাজ্ঞ ও সাহসী সিদ্ধান্তের কল্যানে মধ্যপ্রাচ্য এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। আমরা ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন অংশীদারিত্ব জোরদারের ভবিষ্যত সম্পর্কে আলোচনা করেছি।’

অপরদিকে শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদও তার টুইটার একাউন্টে একই ধরনের টুইট করেন। এতে তিনি লিখেন, ‘আজকে (রোববার) আবুধাবিতে আমি ইসরইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হ্যারজগের সাথে বৈঠক করলাম। আমাদের পারস্পারিক সম্পর্ক, উভয়পক্ষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ইস্যু ও আমাদের দুই জাতির মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের সেতু নির্মাণের আরো সুযোগ অনুসন্ধানের গুরুত্ব নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’

এর আগে রোববার সকালে প্রথম ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট হিসেবে সরকারি সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসেন আইজ্যাক হ্যারজগ। রাজধানী আবুধাবিতে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান।

দুই দিনের সরকারি সফরে প্রেসিডেন্ট হ্যারজগের সাথে তার স্ত্রী ও ইসরাইলের ফার্স্টলেডি মিশেল হ্যারজগও রয়েছেন।

সফরের শেষ দিন সোমবার ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের দুবাই যাওয়ার কথা রয়েছে। আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ে এই সফরে আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুমের সাথে আইজ্যাক হ্যারজগ বৈঠক করবেন।

এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ২০২০ সালের আগস্টে পারস্য উপসাগরীয় দুই দেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরাইলের সাথে স্বাভাবিক কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে সম্মতি জানায়। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউজে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরাইলের সাথে কথিত 'ইবরাহীমি চুক্তির' মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তায় চুক্তিবদ্ধ হয়।

চুক্তির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরাইলে তাদের কূটনীতিক মিশন প্রতিষ্ঠা করেছে। ইসরাইলের দখলদারিত্বের শিকার ফিলিস্তিনি আরবরা এই চুক্তিকে তাদের পিঠে ছুরিকাঘাতের সাথে তুলনা করছেন।

সূত্র : আলজাজিরা