ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেনি গ্যান্টজ বলেছেন, কারাগারে মৃত নাসের আবু হামেদের লাশ পরিবারের কাছে ফেরত দেবে না ইসরায়েল। বুধবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় গৃহীত পূর্ববর্তী একটি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে লাশ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন গ্যান্টজ। ক্যাবিনেটে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কারাগারে মৃত কোনো ফিলিস্তিনীকে ফিরিয়ে নিতে হলে নিখোঁজ বা বন্দী কোনো ইসরায়েলিকে ফেরত দিতে হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফিলিস্তিনের বন্দী বিষয়ক কমিশন এ ব্যাপারে বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, নাসের (৫০) ইসরায়েলের আসাফ হারোফিয়াহ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেছেন। তার চিকিৎসার ব্যাপারে ইসরাইল কর্তৃপক্ষ চরম অবহেলা প্রদর্শন করেছে।
এদিকে শহিদ আবু হামেদের পরিবার জানিয়েছে, যদি নাসেরের লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা না হয়, তবে তার মৃত্যুর সমবেদনা গ্রহণ করা হবে না।
এ সময় তারা ইসরায়েলের মাকাবিরুল আরকাম ও রেফ্রিজারেটরে থাকা বন্দিদের লাশ উদ্ধারের জন্যও জোর তাকিদ দেন তারা।
উল্লেখ্য, নাসের আবু হামেদ ছিলেন কুদস শহিদ ব্রিগেডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ফিলিস্তিনে তিনি আসাদ আল মুনাক্কা (শার্দুল পুরুষ) হিসেবে পরিচিত। তার মায়ের নাম উম্মে নাসের। তিনি প্যালেস্টাইন ওক নামে পরিচিত। তার সহোদরের নাম শহিদ আবদুল মুনঈম। তার উপাধি সায়িকুশ শাবাক।
নাসের জীবনে সাতবার কারাবরণ করেন। তিনি ছাড়া আরো ৬০০ জন বন্দী এখনো ইসরায়েলের কারাগারে রয়েছেন। তারা নানা রোগে আক্রান্ত হলেও ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাসিরের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের কারাগারে মৃত ফিলিস্তিনীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৩৩ জন। তাদের মধ্যে অন্তত ৭৪ জন চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন।
সূত্র : আল জাজিরা ও অন্যান্য





