ইরান-ইসরাইলের মধ্যে টানা ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল ইসরাইল। কিন্তু উপযুক্ত সুযোগ না পাওয়ায় সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়নি। ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এ কথা বলেছেন।

শুক্রবার (২৭ জুন) আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

তিনি বৃহস্পতিবার বলেছেন, খামেনিকে হত্যা করতে ইসরাইলের যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির প্রয়োজন ছিলো না। যদিও কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিয়েছিল।

ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খামেনিকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কোনো কার্যকরী সুযোগ পাইনি।’

তিনি দাবি করেন, খামেনি বুঝতে পেরেছিলেন, তার ওপর হামলার চেষ্টা হতে পারে। তাই তিনি ‘আত্মগোপনে চলে যান’। এ সময় তিনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নিহত নেতাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়া কমান্ডারদের সাথেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

যদিও যুদ্ধ চলাকালে খামেনি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি যে তার জেনারেলদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।

আল জাজিরা বলছে, খামেনিকে হত্যা করলে এই সংঘাত আরো ভয়াবহ রূপ নিত। ইরানের কার্যত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তিনি বিশ্বের কোটি কোটি শিয়া মুসলমানের কাছে তিনি একজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতা।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুজনেই বিভিন্ন সময়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই যুদ্ধ ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে। ট্রাম্প গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, এই সংঘাত ইরানকে ‘আবার মহান’ করে তুলতে পারে।

কাটজের মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর মার্কিন হামলার প্রভাব নিয়ে বিপরীতমুখী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানে পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র বোমাবর্ষণ করেছে, কিন্তু এই হামলায় ঠিক কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।