গাজার এক তৃতীয়াংশ মানুষকে অভুক্ত থাকতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড চাইবান। রোববার (৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায় সংস্থাটি।

টেড চাইবান আরো বলেন, গাজায় মানবিক পরিস্থিতিরি যে অবনতি, তাতে উপত্যকাটি দুর্ভিক্ষের প্রান্তে পৌঁছে গেছে। এখন প্রতি তিনজনে একজনকে পুরো দিন না খেয়ে কাটাতে হচ্ছে।

এদিকে, আল শিফা মেডিক্যাল কমপ্লেক্সের পরিচালক জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় অপুষ্টি ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া দুর্ভিক্ষে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, ক্ষুধায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৯ জনে পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে ৯৩টি শিশু রয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় গাজার মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, উপত্যকায় ৩৬টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে। তবে সেগুলোর অধিকাংশগুলোই লুট ও ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছে।

জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে ইসরাইল গত ২৭ মে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান রিলিফ ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রকল্প শুরু করে। এর অধীনে তারা গাজাবাসীর মাঝে খাদ্যসহায়তা প্রদান শুরু করে। একে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

ফিলিস্তিনিরা বলেন, এর মাধ্যমে মূলত ত্রাণ সহায়তা প্রদান উদ্দেশ্য নয়। বরং ফিলিস্তিনিদেরকে একত্রিত করা এবং তাদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করাই এর উদ্দেশ্য।

শনিবার সকালে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান রিলিফ ফাউন্ডেশনের ত্রাণ নিতে গিয়ে এ পর্যন্ত ১৪২২ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আরো ১০ হাজারের বেশি আহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলমান গাজা যুদ্ধে দুই লক্ষাধিক ফিলিস্তিতি হতাহত হয়েছে। তাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। এছাড়া দশ সহস্রাধিক ফিলিস্তিনি এখনো নিখোঁজ রয়েছে। আর লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা