গত ৮ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনের লড়াইয়ে মার্কিন বাহিনীর ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি ড্রোন এবং একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি রোববার (২৬ জুলাই) ‘অপারেশন নসর ২’-এর বিস্তারিত হিসাব দিয়ে এ কথা জানান। ইরানের বার্তা সংস্থা ওয়ানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কমান্ড কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি ডিপো ও সেনাঘাঁটিতে নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, তিনটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্যাট্রিয়টসহ অন্তত ৩০টি ছোট-বড় রাডার কেন্দ্র ধূলিসাৎ করা হয়েছে। প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সহজেই লক্ষ্যে আঘাত হানে।
তিনি আরও জানান, হামলায় ছয়টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার মেরামত কারখানা, ১২টি জ্বালানি ট্যাংক এবং ১৭টি অস্ত্রাগার ধ্বংস হয়। ধ্বংস হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ছয়টি ড্রেন হ্যাঙ্গার, এফ-১৫ বিমানের প্রস্তুতি কেন্দ্র, পি-৮ টহল বিমানের আস্তানা এবং চারটি হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। বাহরাইনে আমাজনের সাথে যুক্ত একটি মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথ্য কেন্দ্রও গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংসের পাশাপাশি ১৭টি নজরদারি ড্রোন, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান ও আটটি রিফুয়েলিং বিমান ধ্বংসের কথা জানানো হয়।
আইআরজিসির দাবি, মার্কিন সেনাশিবিরে হামলায় ২০০-র বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেক। ওয়াশিংটনের ক্ষয়ক্ষতির আসল তথ্য প্রকাশে সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন মোহেবি।
এই লড়াইয়ের সূত্রপাত নিয়ে মোহেবি জানান, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিয়ম ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন পথ চালু করলে ইরান তাদের একটি জাহাজ আটকে দেয়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূল ও রাডারে হামলা চালালে পাল্টা হিসেবে 'অপারেশন নসর ২' শুরু করে আইআরজিসি।
যুক্তরাজ্য ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে হুঁশিয়ার করে মোহেবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সহায়তা দিলে তাদের ওপরও হামলা হবে। বিশেষ করে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান হামলা চালালে যুক্তরাজ্য সরাসরি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। একই সাথে ইসরাইলকে সতর্ক করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে উসকানি দেওয়া বন্ধ না করলে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।









