ফের ভেঙে পড়ল ভারতীয় বিমান বাহিনীর জঙ্গিবিমান। মঙ্গলবার সকালে গুজরাটের মুন্দ্রায় এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বিমানচালক সঞ্জয় চৌহানের৷ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷
রুটিন মিশনেই মঙ্গলবার উড্ডয়ন শুরু করেছিল জাগুয়ার জেটটি৷ জামনগর এয়ারবেস থেকে সেটির যাত্রা শুরু হয়৷ চালকের আসনে ছিলেন এয়ার কমান্ডার সঞ্জয় চৌহান৷ কিছুদূর যাওয়ার পর গুজরাটের কচ্ছ জেলার মুন্দ্রার কাছে একটি গ্রামের উপর সেটি ভেঙে পড়ে৷ গবাদি পশুদের উপর গিয়ে পড়ে জেটটির ধ্বংসাবশেষ৷ মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকটি পশুরও৷ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন ওই বিমানচালক৷ পরে তার মৃত্যু হয়৷
ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমানে দুর্ঘটনা বেশ পরপরই হচ্ছে৷ মাসখানেক আগেই আসামের মাজুলি দ্বীপে বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ে৷ দুই বিমানচালকের মৃত্যু হয় সে ঘটনায়৷ গত এপ্রিলে একটি এমআই-১৭ চপারও ভেঙে পড়ে৷ কেদারনাথের কাছে সে দুর্ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছিলেন৷ এ দিনের দুর্ঘটনায় সেনার আরো এক চালক প্রাণ হারালেন৷ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনীশ ওঝা ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন৷
প্রায় তিন দশক ধরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম লড়াকু বিমান এই জাগুয়ার৷ অত্যাধুনিক এই বিমানটি মূলত শত্রুঘাঁটিতে বোমা ফেলতে ব্যবহার করা হয়৷ এতে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘লেজার টার্গেটিং পড’৷ এর মাধ্যমে নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম বিমানবাহিনী৷ তবে কয়েক দশক ধরে চলতে থাকা জেটগুলিকে বাতিল করার পরিকল্পনা নেওয়ার কথাও ভাবছে বিমানবাহিনী৷ এদিন সেরকমই এক জাগুয়ার নিয়ে নিয়মমাফিক মিশন বা প্রশিক্ষণে বেরিয়েছিলেন চালক৷ কিন্তু ফেরা হলো না তার৷ প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে যান্ত্রিক গোলোযোগের কারণেই এই বিপত্তি৷ তবে পুরো ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়৷
আরো পড়ুন :
ভারতের সিমলায় পানির জন্য হাহাকার এলাকা ছাড়ছে বাসিন্দারা
উত্তর ভারতের হিমাচল প্রদেশের রাজধানী সিমলায় তীব্র পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এই সঙ্কট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাস্তায় পানির ট্যাংক পাহারা দেয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত দেশটির পুলিশ বাহিনীকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। পানির অভাবে সৃষ্টি হওয়া নজিরবিহীন এই সঙ্কটের কারণে সিমলার ুব্ধ ও হতাশাগ্রস্ত বসবাসকারীদের অনেকেই এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।
ছুটি কাটানোর জন্য বিখ্যাত শহর সিমলা সব সময় পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখর থাকলেও এখন ঘটছে তার ব্যতিক্রম। পানি সঙ্কটের কারণে একে একে এখানকার হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং পর্যটকদের আপাতত এই এলাকা থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
অবশ্য এই সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন রয়েছে সিমলায় স্থায়ীভাবে বসবাস করা মানুষ। শহরের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের পাহারায় ট্যাংকের মাধ্যমে বাসিন্দাদের মধ্যে পানি বিতরণ করা হচ্ছে। শত শত মানুষকে বালতিসহ অন্যান্য পাত্র ভরে পানি সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ব্রিটিশ শাসন আমলে সিমলা শহর ভারতের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এই শহরে প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ লিটার পানির চাহিদা থাকায় গ্রীষ্মকালে প্রায়ই এখানে তীব্র পানি সঙ্কটের সৃষ্টি হয়; কিন্তু এই বছর চাহিদার বিপরীতে পানির সরবরাহ ছিল প্রায় অর্ধেক। গত মঙ্গলবার শহরে মাত্র ১ কোটি ৮০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। অথচ সরবরাহকৃত পানি অর্ধেকেরও কম হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষই চড়া দামে পানি কিনতে বাধ্য হয়েছেন। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবারও একই অবস্থা বিরাজমান ছিল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত পৌরসভা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বা উন্নয়নে কার্যকর কিছুই করছে না। এমতাবস্থায় এবারের সঙ্কটকে নিজেদের জীবনকালের সবচেয়ে ভয়াবহতম পানি সঙ্কট হিসেবে দাবি করেছেন শহরটির বাসিন্দারা। অন্য দিকে হিমালয় প্রদেশে গত শীতে সবচেয়ে কম তুষারপাত রেকর্ড হওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের আগেই তীব্রভাবে পানির সঙ্কট শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কিন্তু অত্যন্ত গোপনে বিভিন্ন হোটেল ও ভিআইপি এলাকাগুলোতে আগেই পানি সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হিমাচলের রাজধানী সিমলার কিছু অধিবাসী। পানি সঙ্কট নিরসনের দাবিতে গত মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকা হলেও পরে তা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং বিক্ষোভকারীরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। তা ছাড়া সিমলা-কালকা জাতীয় সড়ক এবং মান্ডিগামী রাস্তাও অবরোধ করা হয়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, শহরের সব নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ করে দিতে গত সোমবার হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ জারি করেছে। এমনকি পানি বাঁচাতে গাড়ি পরিষ্কার করাও এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ট্যাংকারে করে ভিআইপিদের পানি সরবরাহও বন্ধ রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তা ছাড়া অন্য একটি আদেশে আদালত পানি সঙ্কটের কারণ জানতে চেয়ে কর্তৃপক্ষকে তলব এবং সঙ্কট নিরসনে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে।









