আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বের ন্যাটো বাহিনীর সাথে কাজ করা আফগান দোভাষীদের দেশটি থেকে সরিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র এই তথ্য জানান।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'তারা সাহসী ব্যক্তিত্ব। গত কয়েক বছর তারা যে ভূমিকা পালন করেছেন আমরা তার স্বীকৃতি ও মূল্য নিশ্চিত করতে চাই।'

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকেই আফগান দোভাষীদের সরিয়ে নেয়ার অভিযান শুরু হচ্ছে জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, প্রাথমিকভাবে সামরিক স্থাপনায় থাকা দুই হাজার পাঁচ শ' লোককে যুক্তরাষ্ট্র বা তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে নেয়া হবে।

আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের শুরু থেকে সহায়তাকারী ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ অভিবাসী ভিসা প্রোগ্রাম চালু করতে যাচ্ছে।

গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুসারে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার চলছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুসারে ইতোমধ্যেই দেশটি থেকে ৯৫ ভাগ সৈন্য প্রত্যাহার শেষ হয়েছে।

এরই মধ্যে আফগান সশস্ত্র সংগঠন তালেবান দেশটির বিভিন্ন স্থানের নিয়ন্ত্রণ নেয়া শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই দেশটির ৮৫ ভাগের বেশি এলাকা তালেবানের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার তথ্য জানিয়েছে দলটি।

২০০১ সালে মার্কিন আগ্রাসনের সময় আফগানিস্তানে ক্ষমতায় তালেবান সরকার প্রতিষ্ঠিত ছিল।

ওই বছর ১১ সেপ্টেম্বর নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার জেরে ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন আগ্রাসন চালায়। ২০ ডিসেম্বর জাতিসঙ্ঘ আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক নিরপত্তা সহায়ক বাহিনীর অবস্থানের অনুমোদন করলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের অংশীদার ৪৩টি দেশের সৈন্য দেশটিতে অবস্থান নেয়।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ আলোচনার পর কাতারের রাজধানী দোহাতে এক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির অধীনে তালেবান সহিংসতা ছেড়ে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণে সম্মত হয়। বিনিময়ে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল বিদেশী বাহিনীকে এই বছর ১ মে সময়সীমায় প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তবে গত ১৪ এপ্রিল হোয়াইট হাউজে এক ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নতুন করে এই সময়সীমা ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ান। বাইডেনের ঘোষণা অনুসারে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য ৩৫টি দেশের নয় হাজার পাঁচ শ' ৯২ সৈন্য প্রত্যাহারের কথা রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি