তালেবানের আফগান রাজধানীতে পৌঁছে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আফগান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছেন। তারা দ্রুত আফগানিস্তান ত্যাগ করতে চাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
উপস্থিতদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির কয়েকজন উপদেষ্টাও রয়েছেন। তারা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে এখন অপেক্ষা করছেন বলে জানা গেছে। তারা কোথায় যাবেন তা জানা যায়নি। কিংবা প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিও তাদের সাথে চলে যাবেন কিনা তাও জানা যায়নি। তবে তিনি দেশ ছাড়বেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
রোববার এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট দিল্লি থেকে ওই বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডাটায় দেখা যায়। আমিরাতের একটি ফ্লাইটেরও এখানে অবতরণের কথা ছিল। কিন্তু পরে তা বাতিল হয়।
তালেবান বাহিনী জানিয়েছে, বিমানবন্দরটি উন্মুক্ত রয়েছে। যে কেউ ইচ্ছা করলে বিমানবন্দর দিয়ে চলে যেতে পারে।
কাবুলে পৌঁছেছেন আবদুল গানি বারাদার
তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আবদুল গানি বারাদার দোহা থেকে আজ রোববার বিকেলে আফগান রাজধানী কাবুলে পৌঁছেছেন। আফগানিস্তানের ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেই তিনি কাবুলে এসেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যেই তালেবান বাহিনী কাবুলে পৌঁছে গেছে।
বাগরাম বিমানঘাঁটি ও কারাগার তালেবানের দখলে
কাবুলের উপকণ্ঠে থাকা বাগরাম বিমানঘাঁটি ও কারাগার তালেবান বাহিনীর হাতে চলে এসেছে। গ্রুপটি আজ রোববার এ দাবি করেছে।
তালেবান বাহিনী চার দিক থেকে আফগান রাজধানী কাবুলে প্রবেশ করার প্রেক্ষাপটে বাগরাম বিমানঘাঁটির দখল তাদের হাতে চলে গেল।
গত ২০ বছর ধরে তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাগরাম বিমানঘাঁটি ছিল মূলকেন্দ্র। গত মাসে আফগানদের না জানিয়েই মার্কিন বাহিনী ওই স্থান ত্যাগ করে।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন বাহিনী ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এখানে আসে। তারা বাগরামকে বিশাল সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করে। এখানে ১০ হাজার সৈন্য রাখার মতো স্থাপনা গড়ে তোলা হয়।
বাগরামে একটি কারাগারও আছে। এখানে প্রায় ৫ হাজার তালেবানকে বন্দী করে রাখা হয়েছে বলেও খবরে প্রকাশ। এটি দখল করার পর সব বন্দীকে মুক্তি দেয়া হয়েছে বলে তালেবানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাগরাম কারাগারকে আফগানিস্তানের গুয়ান্তানামো (কিউবায় কুখ্যাত মার্কিন ঘাঁটি) হিসেবেই অভিহিত করা হতো।
এটি আমেরিকানরাই নির্মাণ করেছিল। তবে ২০১৩ সালে এর নিয়ন্ত্রণ আফগানদের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়।
আফগানিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন আলি আহমদ জালালি
আফগানিস্তানের নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আলি আহমদ জালালি। তিনি আগে জার্মানিতে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।
আফগানিস্তান থেকে প্রাপ্ত খবরে বলা হয়, কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে। আর তালেবান যোদ্ধারা পরবর্তী নির্দেশনার জন্য কাবুলের ফটকগুলোতে অবস্থান করছেন।
আফগানিস্তানের হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনস্ট্রাকশনের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ আলোচনায় মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকা পালন করছেন।









