আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপমন্ত্রী ও তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদের টুইটার একাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রোববার কাবুলে বোমা বিস্ফোরণের নিন্দা জানিয়ে মুজাহিদের নিন্দা জানিয়ে টুইটের পরপরই এই পদক্ষেপ নেয় টুইটার কর্তৃপক্ষ।

টুইটার কর্তৃপক্ষ জানায়, মুজাহিদের একাউন্ট থেকে 'কিছু অস্বাভাবিক কার্যক্রমের' জন্য তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

পরে অবশ্য জবিউল্লাহ মুজাহিদের একাউন্ট খুলে দেয়া হয়।

২০১৭ থেকে দারি ও পশতু ভাষায় জবিউল্লাহ মুজাহিদ তার টুইটার একাউন্টে তালেবানের পক্ষ থেকে বক্তব্য ও বার্তা দিয়ে আসছিলেন। এই একাউন্ট থেকেই আফগান তালেবানের বক্তব্য বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন জবিউল্লাহ মুজাহিদ।

জবিউল্লাহ মুজাহিদের একাউন্ট স্থগিত করায় আফগানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

তালেবান সমর্থকরা একে 'মত প্রকাশের স্বাধীনতার মুখে চপেটাঘাত' বলে বর্ণনা করছেন।

তালেবানের এক সমর্থক হ্যাশট্যাগে আনব্লক_জবিউল্লাহ_এমথ্রিথ্রি (#Unblock_zabehullah_m33) লিখে টুইট করেন, 'মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রচারণাকারী ও 'মিথ্যা' দাবিদারদের তাদের কথার প্রতি অটল থাকতে হবে। তাদের কথা ও কাজের মধ্যে পার্থক্য আসমান-জমিনের পরিমাণ।'

@জবিউল্লাহ_এমথ্রিথি (@Zabehulah_M33) জবিউল্লাহ মুজাহিদের টুইটার একাউন্টের ইউজার নেম।

অপরদিকে তালেবানের বিরোধীরা টুইটারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

এক নেটিজেন বলেন, 'যে জবিউল্লাহ মুজাহিদ কয়েক দিন আগেই আফগান বাহিনী ও বেসামরিক লোকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার দায় নেয়ার দাবি করতেন, আজ তিনি তার লোকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় নিন্দা করছেন। আপনি ধান বুনলে ধানই পাবেন।'

এদিকে টুইটার একাউন্ট স্থগিত হওয়ার বিষয়ে জবিউল্লাহ মুজাহিদ বা তালেবানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোববার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের ঈদগাহ মসজিদের বাইরে এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বোমা বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত ও ২০ জন আহত হওয়ার খবর জানায় সংবাদমাধ্যমগুলো।

তালেবানের মুখপাত্র বিলাল করিমির সূত্র দিয়ে খবরে জানানো হয়, বিস্ফোরণে তালেবান যোদ্ধাদের কোনো ক্ষতি না হলেও বিপুল বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছেন।

ওই সময় মসজিদে জবিউল্লাহ মুজাহিদের মায়ের স্মরণে মিলাদ মাহফিল চলছিলো।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি