ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পেহেলগাম হামলার পর ভারতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে, এমন অভিযোগ করেছেন জাতিসঙ্ঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার।
একইসাথে টেকসই শান্তির জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল সোমবার জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনের পর রাষ্ট্রদূত ইফতিখার গণমাধ্যমকে ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘৭০ বছরেরও বেশি সময় পরেও কাশ্মির বিরোধ আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।’
তিনি বলেছেন, ‘কাশ্মির বিরোধ পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে মূল সমস্যা এবং এটি কাশ্মিরি জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সমাধান করা উচিত।’
ইফতিখার আরো বলেছেন, ‘কাশ্মিরি জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া কাশ্মির বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। এই মূল সমস্যাটির সমাধান ছাড়া এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তিও সম্ভব নয়।’
জম্মু ও কাশ্মিরের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রতি বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি দাবি করেছেন, ভারতীয় বাহিনীর হাতে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকরা এখনো নিপীড়ন ও নৃশংসতার শিকার হচ্ছে।
এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইসলামাবাদ বারবার বলেছে এবং আবারো বলছে, পেহেলগাম ঘটনার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা দিতে ইচ্ছুক।
এদিকে, জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
আসিম পুনর্ব্যক্ত করেছেন, এই অঞ্চলে টেকসই শান্তির জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার পর পাকিস্তান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সিমলা চুক্তি স্থগিত করেছে।
ইফতিখার বলেছেন, পাকিস্তান তার প্রতিবেশীদের সাথে সকল সমস্যা সমাধানের জন্য সংলাপকে অগ্রাধিকার দেয়, কারণ সংলাপই শান্তির একমাত্র কার্যকর পথ।
এছাড়া তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার লক্ষ্যে এই বৈঠকের জন্য নিরাপত্তা পরিষদকে ধন্যবাদ জানান। সূত্র : বাসস









