পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে জমা হওয়া শরণার্থীদের সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বেলারুশ। বৃহস্পতিবার বেলারুশের স্টেট বর্ডার কমিটি এই ঘোষণা দেয়।
স্টেট বর্ডার কমিটি জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই সীমান্তে থাকা সকল শরণার্থীকে কাছাকাছি অস্থায়ীভাবে নির্মিত আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সীমান্তে জড়ো হওয়া শরণার্থীরা ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও এশিয়া-আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে বলে জানানো হয়।
স্টেট বর্ডার কমিটি আরো ঘোষণা করেছে, সীমান্ত থেকে যেহেতু সবাই চলে এসেছে, সুতরাং কোনো সাংবাদিক এখন সেখানে কাজ করতে পারবে না। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
এদিকে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকশেঙ্কো শরণার্থীদের জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, সুপেয় পানি ও পরিচ্ছন্নতা সরঞ্জাম দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
গত আগস্ট থেকেই বেলারুশ সীমান্তের ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ লিথুনিয়া, লাটভিয়া ও পোল্যান্ড বেলারুশ থেকে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করে।
চলতি বছর বেলারুশ থেকে আট হাজারের বেশি লোক ইউরোপ প্রবেশের চেষ্টা করেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিলো এক শ’ ৫০ জন।
এই ঘটনার জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো বেলারুশের বিরুদ্ধে তাদের দেশে শরণার্থী ঢুকিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ করে।
বেলারুশের দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো গত বছরের আগস্টে ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচনে জয় লাভ করেন। বিজয়ী হওয়ার পর তিনি বিরোধীদের প্রতি দমন অভিযান শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির সরকারের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা দেয়। নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধে শরণার্থী প্রবেশের পথ করে দিয়ে বেলারুশ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে পাল্টা চাপে ফেলার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
শরণার্থী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পোল্যান্ডসহ সীমান্তবর্তী দেশগুলো কঠোর পাহারা চালু করা হয়। বেলারুশ-পোল্যান্ড সীমান্তে জড়ো হওয়া শরণার্থীরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া তারা পোল্যান্ডে প্রবেশ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়লে সীমান্তরক্ষীদের সাথে সংঘর্ষে জড়ান।
বেলারুশ-পোল্যান্ড সীমান্তে এই সময় নারী ও শিশুসহ অন্তত দুই হাজার শরণার্থী আটকা পড়েছিলেন।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি








