ইউক্রেনের বন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশী জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধির একজন নাবিকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দেশে ফেরার তীব্র আকুতির কথা জানিয়েছেন।

আতিকুর রহমান মুন্না বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ 'বাংলার সমৃদ্ধি'র ২৯ জন নাবিকের একজন।

মোবাইল সংযোগ কাজ করছে, তবে ইন্টারনেট সংযোগ খুব সীমিত। বিবিসি বাংলার শাহনেওয়াজ রকির সাথে তার কথা হয় ফেসবুকের ফ্রি মেসেঞ্জার সার্ভিসের মাধ্যমে।

কেমন আছেন? জিজ্ঞেস করতে জানালেন, দুশ্চিন্তায় আছেন। কারণ তিনি জানেন না কবে এই আটকে পড়া দশা থেকে মুক্তি পাবেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত থাকায় বহির্বিশ্বের খবর খুব একটা পাচ্ছেন না। যুদ্ধের বিস্তারিত খুব কমই জানতে পারছেন।

তবে আশপাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন তিনি। যেদিন যুদ্ধ বেধেছে প্রথম, সেদিন আকাশ থেকে বোমা ফেলতে দেখেছেন। যে বন্দরে আটকা পড়েছেন তারা, সেই অলভিয়ার আশপাশে রোববার তারা অনেক বিস্ফোরণের শব্দ পেয়েছেন।

এসব কারণে তাদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।

জাহাজের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে মাঝে মাঝে বাংলাদেশে পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন রহমান।

তিনি জানান, শিপিং করপোরেশন ও বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকেও ক্যাপ্টেনের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে, কিন্তু কীভাবে এই অবস্থা থেকে মুক্ত হবেন তা এখনো জানেন না।

বিবিসির শাহনেওয়াজ রকিকে রহমান আরো বলেন, জাহাজে যে খাবার মজুদ আছে তা দিয়ে সব ক্রুর ৪০ দিন পর্যন্ত টিকে থাকা সম্ভব হবে, খাবার পানি আছে প্রায় ১০০ টনের বেশি, তাই আপাতত খাবার ও পানি নিয়ে চিন্তা করছেন না। যত দুশ্চিন্তা দেশে ফিরতে পারবেন তো?

সীমিত ইন্টারনেট সংযোগের কারণে তার সাথে খুব বেশি আলাপ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিদায়ের আগে তিনি আকুতি জানান, ‘দেশে ফিরতে চাই’।

কী অবস্থা জাহাজটির?
গত ২৬ জানুয়ারি ভারতের মুম্বাই বন্দর থেকে যাত্রা করে এবং তুরস্কের ইরেগলি হয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছায় 'বাংলার সমৃদ্ধি'।

জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর পর দিন ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হয়।

জাহাজটি ইউক্রেন থেকে সিরামিক ক্লে নিয়ে ইতালির রেভেনা বন্দরে যাবার কথা ছিল।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক পীযূষ দত্ত বলেছেন, সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জাহাজ এবং এর নাবিকেরা নিরাপদ আছেন।
সূত্র : বিবিসি