ইতালিতে নাগরিকত্বের নিয়ম শিথিল ও শ্রম আইন আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় সময় রোববার (৮ জুন) থেকে শুরু হয়ে এ ভোটগ্রহণ চলবে আগামীকাল পর্যন্ত।

তবে এর বিরোধিতা করছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকার। তারা ভোটারদের গণভোটে অংশ না নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে এ গণভোটের বৈধতা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। গণভোটটি বৈধ হতে হলে যোগ্য ভোটারের ৫০ শতাংশের বেশি অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

এএফপি জানিয়েছে, বর্তমান আইনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে (বিবাহ বা রক্তের সম্পর্কবিহীন) নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হলে ইতালিতে অন্তত ১০ বছর বসবাস করতে হয়। তবে প্রস্তাবিত গণভোটের মাধ্যমে এ সময়সীমা অর্ধেক করে পাঁচ বছর করার কথা বলা হয়েছে, যা ইতালিকে জার্মানি ও ফ্রান্সের সমপর্যায়ে নিয়ে আসবে। প্রচারকারীরা বলছেন, এ সংস্কার কার্যকর হলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টি এ প্রস্তাবের পক্ষে রয়েছে।

তবে মেলোনি এ পরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, বর্তমান আইনটি ‘চমৎকার’ এবং ইতালি প্রতি বছর ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি নাগরিকত্ব প্রদান করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালেই দুই লাখ ১৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ ইতালির নাগরিকত্ব পেয়েছেন, যাদের বেশিভাগই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশ থেকে এসেছেন।

গণভোটে নাগরিকত্ব ছাড়াও শ্রম আইন সংশোধনের বিষয়ে চারটি প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বরখাস্ত হওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বা কর্মস্থলে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া শ্রমিকদের অধিক সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে আইনি পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বামপন্থী সিজিআইএল ট্রেড ইউনিয়ন এ পরিবর্তনগুলোর জন্য চাপ দিচ্ছে। তারা চায় এমন একটি সংস্কৃতিকে পরিবর্তন করতে, যেখানে ব্যবসার স্বার্থ কর্মীদের চেয়ে অগ্রাধিকার পায়। ডেমোক্রেটিক পার্টিও এ প্রস্তাবগুলোকে সমর্থন করছে। যদিও তারাই অতীতে ক্ষমতায় থাকাকালীন কিছু আইন প্রবর্তন করেছিল, যা এখন বাতিল করতে চাওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মতে, ডেমোক্রেটিক পার্টি এ গণভোটকে সমর্থন করে শ্রমজীবী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চাইছে। দলটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় মেলোনির দলের চেয়ে পিছিয়ে আছে। গণভোটের ফলাফল ইতালির সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।