সকাল ৮টা থেকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও ট্রেনের অগ্রিম টিকিট মিলছে না। নিয়ম অনুযায়ী ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ছাড়া হয় ঈদের ১০ দিন আগে। দীর্ঘ লাইন পেরিয়ে যখন কাক্সিক্ষত টিকিট চাওয়া হয়, জবাব আসেÑ ‘টিকিট নেই’। দু-চারবার চাওয়ার পর বলা হলোÑ ‘১২টা-১টার পর আসেন’। সবাইকে যদি এভাবেই হতাশ করে ফিরিয়ে দেয়া হয়, তাহলে টিকিট কিনছে কারা? প্রায় প্রতিটি স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে কালোবাজারিদের হাত আছে, এসব দৃশ্য দেখে তা বুঝতে আর বাকি থাকে না। জনগণের নির্বিঘেœ চলাচল করার জন্য দেশব্যাপী ট্রেন সার্ভিস চালু রয়েছে; কিন্তু ট্রেনের টিকিট বিড়ম্বনা যেন যাত্রীদের মনমেজাজ বিষিয়ে তুলেছে। কোনো উপায় না পেয়ে তারা পুরো ভাড়া দিয়ে ‘স্ট্যান্ডিং’ টিকিটে ভ্রমণ করছেন। ভাড়ার পরিমাণ কম নয়। সড়ক পথে রাস্তাগুলো সঙ্কীর্ণ হওয়ায় প্রায়ই বাসে মিনিবাসে দুর্ঘটনা ঘটে। তাই জনগণের ট্রেন ভ্রমণ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে; কিন্তু সে অনুযায়ী ট্রেনের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়নি। আজকাল ট্রেনের দিকে তাকালে মনে হয়, ট্রেনটি যেন শহরের সব লোক নিয়ে রওনা দিয়েছে! অর্থাৎ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে ছুটে চলে।
ঈদুল ফিতর আসন্ন। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময় ট্রেন ভ্রমণ বৃদ্ধি পায় অনেক। ১ জুন থেকে ‘ঈদ স্পেশাল’ নামে অগ্রিম টিকিট ছাড়া হয়েছে। এই টিকিট শুধু ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পাওয়া যাবে। প্রশ্ন হলোÑ দেশে শুধু একটি স্টেশনে কেন টিকিট দেয়া হবে? এমনকি, ঢাকার অন্যান্য স্টেশনে টিকিট দেয়া হচ্ছে না কেন? টিকিট কেনার জন্য মানুষজন দূর-দূরান্ত থেকে দুর্ভোগ পাড়ি দিয়ে কমলাপুর যাবেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াবেন। কিন্তু লাইন শেষ হওয়ার আগেই টিকিট শেষ হয়ে যাবে।
তারপর হতাশ হয়ে অন্য পথ ধরতে হবে অথবা কালোবাজারিদের খুঁজতে হবে। অনেক বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কিনে বাড়ি ফিরতে হবে। এভাবে ঈদের আনন্দ আহাজারিতে পরিণত হয়।
ভুক্তভোগী হয়ে বলছি, ট্রেনে এভাবেই বিড়ম্বনা বাড়ছে। সময়মতো টিকিট মিলছে না, তার ওপর দাম বাড়ছে। অথচ ভ্রমণের মান বাড়ছে না। আজকাল ট্রেনেও দুর্ঘটনা ঘটছে। যাত্রীরা গাড়ির বিলম্বের দুর্ভোগ নিয়ে ভ্রমণ করছেন; কিন্তু এভাবে আর কত দিন! তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন, রেল খাতে সব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা হোক। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।হ
md.angkon12@gmail.com