মিডিয়ায় নারীকে আকর্ষণীয় বুঝাতে তার বুক, পেট ও কোমড়ের একটি নির্দিষ্ট মাপকে (৩৬-২৪-৩৬) আদর্শ হিসেবে প্রচার করা হয়। আবার দেহের উচ্চতা ভেদে এই মাপের কম-বেশি হয়। তবে এমন প্রচারণার কারণে পুরুষদের কাছে যেমন নারীদেহের সৌন্দর্য এটাতেই, আবার পুরুষের কাছে নিজেকে আকর্ষণীয় লাগাতে ও পত্রিকায় বিভিন্ন মডেলের উন্মুক্ত ও কারসাজি করা সৌন্দর্য দেখে আমরা অনেকেই স্লিম হতে ব্যস্ত। কারণ, বেশি হলেই আমাদের ‘মোটা’ বা আঞ্চলিক ভাষায় ‘মোটকি’ উপাধি দেয়া হবে। ফলে খাদ্যে নিয়ন্ত্রণ, শরীরচর্চা, পার্লারে যাওয়াÑ সবকিছুতে অতিরিক্ত করা, এমনকি প্লাস্টিক সার্জারি পর্যন্ত করে ফেলে অনেকে। আবার কেউ কেউ অবুঝের মতো অভুক্ত থেকে ক্ষুধাকে জয় করার চেষ্টা করেন। এসব করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আবার কেউ কেউ অসুস্থ না হলেও পরবর্তী জীবনে নিজের অতীতের ভুল বুঝতে পারেন, যখন করার কিছুই থাকে না। বিশেষ করে যখন সেই নারীর বিয়ে হয় ও গর্ভে সন্তান আসে।
বলছি সন্তান জন্মদানের কথা। একটা নারীর যখন স্বপ্ন জাগে সে মা হবে, কিংবা তার গর্ভে সন্তান আসে। একটা স্লিম ফিগার নিয়ন্ত্রণ করা সেই মেয়েটা কি মনে করে নিজ দেহে আরেকটা মানব দেহের অস্তিত্ব বেড়ে ওঠা এতটা সহজ? কিংবা স্লিম হতে গিয়ে যাদের দেহে অপুষ্টি বাসা বেঁধেছে, তারা কি এটাকে সহজ মনে করছেন? কখনোই না। কি পরিমাণে মায়ের শরীর থেকে রক্ত, পেশিশক্তি নিয়ে একটা শিশু ৯ মাসে বেড়ে ওঠেÑ এটা একটা মা-ই বলতে পারে। শুধু গর্ভে থাকাকালীনই নয়, পরবর্তীতে ভূমিজাত হওয়া সেই শিশুকে দুধপান করানো থেকে শুরু করে বড় করতে একটা মায়ের কী পরিমাণ শারীরিক শক্তি লাগে তার কল্পনা করা যাবে না।
সুতরাং, আমরা যারা টিভির মডেলদের মতো স্লিম হতে দৌড়াচ্ছি, তারা এসব মডেলদের ক্রেজ চলে গেলে কয়জন এদের জীবনের খবর রাখছি? নির্দিষ্ট মাপের দেহের মূল্য কয়দিন? আর যেসব পুরুষদের জন্য নিজেকে আকর্ষণীয় করা হচ্ছে, অসুস্থ হলে তারা কি আপনার খোঁজ নিতে আসবে? নাকি তখন ‘রোগা’, ‘হ্যাংলা’ উপাধি দেয়া হবে?
আবার কিছু নারী আছেন, যারা ফ্রেন্ডদের কাছে তো বটেই খোদ স্বামীর মুখেও ‘মোটকি’ উপাধি পান। যেটা অনেক দুঃখের বিষয়। তাদের উদ্দেশ্যে বলব, কারো কথায় মন খারাপ করার একেবারেই দরকার নেই। কারণ, অনেকে নারী দেহকে মনে করে রেখেছে মেশিন! ‘এখন তোমায় স্লিম হতে হবে, এখন একটু ওজন বাড়াও’। বাহ! কি তামাশা! মানুষের চাহিদার শেষ নাই। সুতরাং আমাদের যেটা হতে হবে তাহলোÑ স্বাস্থ্যবান। স্লিম, মোটা আর স্বাস্থ্যবানÑ এক জিনিস নয়। অতিরিক্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কিংবা অতিরিক্ত ভোজন কোনোটাই উত্তম নয়। আমার দেখা মতে, অতিরিক্ত ভোজনের ফলেই অনেকে মোটা হন। সে নারী হোক বা পুরুষ। পরে দেখা যায় সেই ব্যক্তিটি তার জীবনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ও দায়িত্ব ঠিকভাবে করতে পারেন না, সহজে হাঁফিয়ে উঠেন ও রোগবালাইয়ের শিকার হন। তাই সহজ কথা হলোÑ আমাদের পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে, আর সারাদিনে প্রচুর পানি পান করতে হবে। তা ছাড়া খাওয়ার আদব-কায়দা তো আমাদের জানাই আছে। যেমনটি নবীজী সা: শিখিয়েছেন। এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানি, এক ভাগ বাতাসÑ এভাবে পেটটাকে তিন ভাগ করে নিতে হবে। তবে আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে স্লিম হতে খাওয়া ছেড়ে দাও কিংবা খেতেই থাকো।
মনে রাখতে হবে, আমরা মায়ের জাতি। একটা পুরুষের চেয়েও আমাদের দায়িত্ব ও কষ্ট কম নয়। তা ছাড়া ‘স্বাস্থ্য’ নামের এই নেয়ামতটা বজায় রাখতে হবে। কারণ, সুস্থ থাকলেই পৃথিবী উপভোগ করা যায়, অন্যথায় ইবাদতেও মন বসে না।হ