কথায় আছে, মানুষ সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব। কথাটি গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের। রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক এই বাণীর মাধ্যমে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন প্রতিটা মানুষই যে সমাজের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রাণীও। বেশ কিছুদিন আগে আমাদের পরিকল্পনামন্ত্রী সাকিব-ম্যাশের রাজনীতিতে আগমনের বার্তা দিলেন। কিন্তু এ বার্তা নিয়ে দেশব্যাপী চলেছে আলোচনা, হয়েছে সমালোচনাও। এ মিশ্র প্রতিক্রিয়ার বেশ কিছু কারণের একটি কারণ হতে পারেÑ সাকিব ও ম্যাশের ক্রিকেটে থেকেই রাজনীতির ঘোষণা। ক্রিকেটারেরা যে রাজনীতি করেন না, এমন নয়। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের ‘তেহরিক ইনসাফ’ নামে একটি রাজনৈতিক দলও আছে। রাজনীতির মাঠ আর খেলার মাঠ, দু’টিই বড় জটিল হিসাবের মাঠ। পারফরম্যান্স কাকে কখন কোথায় নিয়ে যায়, তা বলা দুরূহ! তবে এ দুই মাঠে আছে ব্যাপক ফারাক। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে, রাজনীতির মাঠকেই বড় জটিল মনে হবে। ১১ জন সদস্য নিয়ে ক্রিকেট একটা জয় ছিনিয়ে আনা যদিও আবার এতটা সহজ কাজ নয়। রাজনীতি সহজেই নিন্দিতকে নন্দিত করে, নন্দিতকে করতে পারে নিন্দিত। তাই এ নন্দিত-নিন্দিত খেলোয় কোনো ভালো মানুষ আসুক, স্বভাবসুলভভাবেই চান না অনেকে। যে প্রতিক্রিয়াটা দেখা গেল সাকিব-মাশরাফির রাজনীতিতে আসা নিয়ে। যার কারণে অনেকে করছেন দ্বিমত। রাজনীতিতে আসাটা এ দুই তারকা ক্রিকেটারের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ হিসেবে এখানে মত প্রয়োগ সম্পূর্ণই বোকামি মনে করছি। তবে সাকিব-ম্যাশ যখন বল হাতে মাঠে নামেন, তখন তারা কেবল ব্যক্তি থাকেন না, হয়ে পড়েন ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। আর এই দুই খেলোয়ার এখনো জাতীয় দলে খেলছেন। ঠিক এ কারণে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ বা ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রশ্ন তুলতে চাইছেন তাদের রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে। বাংলাদেশ যে ক্রিকেটে অনেকটাই দুর্বল, তা আফগান সিরিজে আবার প্রমাণ হলো। এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজে আমাদের জাতীয় দলে উদীয়মান তেমন তারকা ক্রিকেটার নেই। মাত্র কয়েকজন ভালো ক্রিকেটারের ওপর ভর করে চলছে দল। তার অন্যতম দুইজন হলেনÑ সাকিব-মাশরাফি। এখন এ দুই ক্রিকেটার রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত হলে, সঙ্কটে পড়বে দেশের ক্রিকেট। অন্য একটি কথা হলো, আমাদের রাজনীতি অনেকটাই দুর্নীতিবাজ, অসৎ ব্যক্তিদের দখলে। তাই এখানে দরকার ভালো মানুষের আগমন। এই বিবেচনায় সাকিব-ম্যাশের রাজনীতিতে আগমন সবুজ সঙ্কেতই বলা যায়। তবে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে হবে। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা