হামলা-মামলার বেলাগাম রাজনীতির গণ্ডির ভেতরে থেকে ঘরে ঘরে আদায় করা হচ্ছে ট্যাক্স। দেশে বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে অনেক প্রবীণ নবীন লেখক ও সাংবাদিক রয়েছেন; কিন্তু অবোধগম্য কারণে তারা নীরব বললেই চলে। লেখা বা বুঝার ভাষা আজ অনেকেই হারিয়ে ফেলেছেন হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয়ে। তাই বলে কি জনস্বার্থে কলম থেমে থাকতে পারে?
প্রথমেই বলতে হয় কোটা সংস্কার ছাত্র আন্দোলন নিয়ে। কারণ সত্য ও ন্যায়ের পথে এই আন্দোলন করতে গিয়ে এখন অনেক ছাত্র পঙ্গু হতে চলেছে; আবার কেউ কেউ মৃত্যুর সাথে লড়ছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যারা ন্যায়ের কণ্ঠকে রোধ করতে গিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলে পড়েছিল তারা আজ ‘অধরা’। অথচ মুছে যায়নি সামাজিক ও যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত কিছু কিছু ভিডিও-ছবি। ন্যক্কারজনক এ ঘটনার চিত্র সাক্ষী হয়ে আছে সমগ্র বিশ্বে। এতে ছাত্রলীগ নামধারী কলঙ্কিত ছাত্ররা জড়িত; তা আজ বুঝতে কারো বাকি রইল না। কি চমৎকার আওয়ামী সরকারের শাসনামল! নিজেরাই কথা দেয়, আবার নিজেরাই এর খেলাপ করে। লোকলজ্জা ও ভয় কিছুই তাদের নেই কি? দেশে-বিদেশে কোটা সংস্কার দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের বিষয়টি এখন বহুলালোচিত। সরকার ওই হামলাকারী দুর্বৃত্তদের আশ্রয়দাতা হয়ে বিরাট বাধা হয়ে আছে। ‘সহযোগিতায় সরকার, জোগান দিচ্ছে পুলিশ আর হামলা চালাচ্ছে দুর্বৃত্তরা!’ গণতন্ত্রের ভাষা ছিনিয়ে নেয়ার অপচেষ্টায় আজ সরকার সরাসরি জড়িত হচ্ছে কেন? মানুষের প্রতিবাদের ভাষাকে রোধ করতে ক্যাডাররা প্রকাশ্যে হাতে আইন তুলে নিচ্ছে। এ কোন রাজনীতি!
এদিকে দেখা যায়, গ্রাম-গঞ্জ, শহরে প্রতিটি ঘর থেকে আদায় করা হচ্ছে সরকারের নামে ট্যাক্স। যা পুরনো রাজার আমলকেও হার মানাচ্ছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধীরে ধীরে ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। বঙ্গবন্ধু সব সময় দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করে গেছেন। তার কন্যা দেশের মঙ্গলে কাজ করে গেলেও এখনো লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি। আওয়ামী লীগ সরকারকে সামনের নির্বাচনে খেসারত দিতে হবে হয়তো। ভোটের মালিক এ দেশের জনগণ। বিরোধী দলেরও এ সুযোগ কাজে লাগানো স্বাভাবিক।
হামলা-মামলা নেশা ও পেশায় পরিণত হয়েছে কখনো আইসিটি আইনে আবার কখনো বিরোধ ঠেকাতে। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, প্রতিহিংসা ঘিরে রেখেছে রাজনীতির অঙ্গনকে। জনগণ কোন সময় কোন দিকে মোড় নেবে, তা বলা খুবই কঠিন। সরকারকে পরিচয় দিতে হবে প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার-জয় করতে হবে জনগণের মন, নিশ্চিত করতে হবে প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক ভাষাকে।
এই সমাজে যারা উচ্চ শিখরে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা সবাই কমবেশি শিক্ষালাভ করেছেন। সেই শিক্ষার মানকেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষকেরা (বিদ্যালয়) এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশনে যোগ দিয়েছিলেন। অনেকে দাবি আদায় করতে গিয়ে নানা রোগে আজ মৃত্যুশয্যায়। তাদের অপরাধ কী? বিষয়টি আজ সামাজিক ও যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে চাউড় করা হচ্ছে, এতে সরকারই বিতর্কিত হচ্ছে। আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই জাতির স্বার্থে অন্যায়কে বিতাড়িত করে সব সমস্যার ন্যায্য সমাধান করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এর বদলে শিক্ষক, ছাত্র ও ট্যাক্স নিয়ে রাজনীতি কেন? হ
লেখক : সাংবাদিক