আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো, যাতে একজন শিক্ষার্থীর দক্ষতা অর্জনের দিকে তেমন দৃষ্টিপাত করা হয়নি। আবার পরিবারগুলোতে শিশুদের এমনভাবে লালন পালন করা হয়, যেখানে শিশুরা জীবন দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। একজন মানুষ সুন্দরভাবে, স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে, সাবলীলভাবে জীবন পরিচালনার জন্য দরকার ন্যূনতম কিছু দক্ষতা। তা না থাকলে কেউ কখনো সুষ্ঠুভাবে জীবন নির্বাহ করতে পারে না। আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় এসেও জীবন দক্ষতাগুলো সম্বন্ধে তেমন সচেতন থাকে না বা হয় না। একজন শিক্ষার্থী কোনো সমস্যায় পড়লে কিভাবে সে সমস্যা সমাধান করা যাবে তা খুঁজে পায় না। হয়তো বা কিভাবে সমাধানের পথ বের হওয়া উচিত তা ভাবেই না। আবার দেখা যায়, অনেকে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। অনেক সময় অনেকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা বান্ধবীর সাথে বনিবনা না হওয়ার কারণে যোগাযোগ বন্ধ হলে মানসিকভাবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। কিন্তু তা থেকে সহজে বের হওয়া যায়, শুধু ‘জীবন দক্ষতা’ না থাকার কারণে এ সব সামান্য বিষয় গুরুতর।
নির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না, জীবন দক্ষতা কতগুলো। ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন কয়েকটি জীবন দক্ষতা চিহ্নিত করেছে যা সুনাগরিক হতে গেলে সবার জানা দরকার।
আত্মসচেতনতা : প্রতিটি মানুষ নিজেকে সচেতন বললেও আসলে সচেতন কি-না খোদ সে বিষয়ে সচেতনতা নেই বললেই চলে। আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি করতে নিজের নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য পরিহার করে তদস্থলে ইতিবাচক ধারণা নিয়ে আসতে হবে। গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে নিজেকে। লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। নিজের ব্যর্থতা-সফলতার দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
সমস্যা সমাধানের দক্ষতা : ছোট থেকেই একজন শিক্ষার্থীকে শেখানো উচিত, কিভাবে সে কোনো সমস্যার মোকাবেলা করবে বা কোনো সমস্যায় পড়লে তার করণীয় কী। প্রথমে সমস্যা বুঝে নিতে হবে, তার পর সমস্যা সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। অতপর গুরুত্ব দেখে তা সমাধানের কয়েকটি পথ বের করতে হবে। যে পথটি বেশি কার্যকর মনে হবে, সে পথে অগ্রসর হতে হবে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা : সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সঠিক সিদ্ধান্তকে সফলতার দ্বার বলা চলে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে যথার্থ এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কাজ করা অবস্থায় কাজ পরিবীক্ষণ এবং শেষে মূল্যায়ন করতে হবে।
চাপ মোকাবেলার দক্ষতা : যারা চাপের মুখেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তারা সহজে কর্মক্ষেত্রে সফল হয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। চাপের সময় চাপ সৃষ্টিকারী পরিস্থিতির মূল্যায়ন করে নিজেকে শান্ত রাখতে হবে। আবেগ দমিয়ে রাখতে হবে এবং নিতে হবে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির পরামর্শ।
আবেগ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা : উচ্চশিক্ষা নিতে এসে অসংখ্য শিক্ষার্থী তাদের লক্ষ্য থেকে সরে যায় শুধু আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায়। আমার এক বন্ধু খুবই ভালো ছাত্র। কিন্তু এখন খুবই খারাপ অবস্থা। হঠাৎ করে ‘ব্রেকআপ’ হওয়ায় নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে অনেকটা। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এর কারণ চিহ্নিত করতে হবে। আবেগের তীব্রতা হ্রাসের জন্য সময় ক্ষেপণ করতে হবে এবং নিজের ভুলত্রুটি খুঁজে দেখতে হবে। এ ছাড়াও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছে সব ব্যক্ত করে পরামর্শ নিতে হবে এবং গ্রহণযোগ্য পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
সহমর্মিতা : সমাজে চলতে গেলে সহমর্মিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি একজন ব্যক্তিকে অন্যের সমস্যা বুঝতে এবং অন্যের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতে শেখায়। এটি পরিবারে ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষভাবে দরকার। কারণ, ব্যক্তি এখানে যা চর্চা করবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী জীবন অতিবাহিত করবে। এটি মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা বৃদ্ধি করে। সহমর্মিতা অন্যের অনুভূতিকে নিজের অনুভূতি ভাবতে এবং ব্যক্তিকে অন্যের সমস্যার সমাধানে ও কষ্ট লাঘবের জন্য উদ্বুদ্ধ করে।
যোগাযোগ দক্ষতা : এটা দক্ষতা এমন একটি দক্ষতা যা না থাকলে মানুষ আত্মকেন্দ্রিক হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।