বিদ্যুৎ বিভ্রাট রাজধানীতে কিছুটা কম হলেও মফস্বল ও জেলা শহরগুলোতে একটি সাধারণ ঘটনা। এই সমস্যার কোনো প্রতিকার লক্ষ করা যাচ্ছে না। সাধারণত বৃষ্টি মওসুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়। তবে গ্রামাঞ্চলে কথিত আছে মেঘ দেখে বিদ্যুৎ পালায়। কিন্তু বর্তমানে ঝড় নেই, বৃষ্টি নেই তবুও নিয়মিত চলে বিদ্যুতের আসা যাওয়ার খেলা। কোনো কারণ ছাড়াই কেন এই বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট? বিদ্যুৎ বিভাগ এবং সরকারের কর্তাব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। লোডশেডিং শব্দটা নিয়েও তাদের ঘোরতর আপত্তি। তবে তারা স্বীকার করেছেন, বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সাব-স্টেশনের অভাব রয়েছে। ফলে বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবরাহের মধ্যেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে।
কোনো কোনো এলাকায় মাগরিবের আজানের সাথে সাথে লোডশেডিং শুরু হয়, যা স্থায়ী হয় রাত ১০-১১টা পর্যন্ত। প্রতিটি স্কুল কলেজে শুরু হতে যাচ্ছে বার্ষিক পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরুর আগে কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে অবাধে চলছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার উপযুক্ত সময়। মফস্বলের শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে।
ঘরে ঘরে আলো জ্বালব, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের একটা ঘরও আর অন্ধকারে থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর এরূপ বিপুল আশ্বাস পেয়ে জনগণ আশান্বিত হলেও একটি তথ্য কিছুটা হলেও জনগণকে হতাশ করেছে। সেটি হলো বাংলাদেশ এখন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে এশিয়ার শীর্ষে অবস্থান করছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেক বেড়েছে। তবে উৎপাদন বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে চাহিদাও বেড়েছে ব্যাপক। তাই এ কথা স্পষ্ট, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহও জরুরি।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সরকারের শিরস্ত্রাণের সবচেয়ে রঙিন পালকটি নি®প্রভ হয়ে পড়ছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, গত ছয় বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর দিকে যতটা নজর দেয়া হয়েছে, সঞ্চালন লাইন সম্প্রসারণে ততটা নজর দেয়া হয়নি। সাধ ও সাধ্যের বৈপরীত্যও হয়তো এজন্য দায়ী। তা ছাড়া বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অবৈধ সংযোগ, বিদ্যুৎ পাচার, পুল ও তার সংযোগ স্থাপনে দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত বিল আদায় করাসহ নানা অসঙ্গিমূলক কাজের কারণেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। এসব সমস্যার রোহিতকরণ ছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিকার সম্ভব নয়। আবার ভাড়াভিত্তিক ছোট ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন না করে পানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বৃহদায়তন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঙ্কট নিরসন করা যেতে পারে। তবে আমরা আশা করি, এ সমস্যার গ্রন্থিমোচনে বিদ্যুৎ বিভাগ জরুরিভাবে পদক্ষেপ নেবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতি রেখে সঞ্চালন ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। বিদ্যুৎ যেমন আধুনিক জীবনের অনুষঙ্গ তেমনি উন্নয়নের হাতিয়ার। তাই জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিদ্যুতের সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। হ
লেখিকা : শিক্ষার্থী, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
