বাংলাদেশে তৈরি করা ওষুধ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশেই সুনামের সাথে রফতানি হচ্ছে। একঝাঁক ফার্মাসিস্ট, যারা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে পরম মমতায় তৈরি করেন লাখ কোটি মানুষের উপকারী ওষুধ।
ফার্মাসিস্টদের কাজের মধ্যে রয়েছে একটি ওষুধ কোন রোগের জন্য, কী কী উপাদান কী পরিমাণে মিশিয়ে ওষুধ উৎপাদন ও সংরক্ষণ, ওষুধ সম্পর্কে সঠিক তথ্য বিতরণ এবং এর সঠিক ব্যবহার ও প্রভাব নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসাগত প্রয়োগ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি।
দেশের তৈরি করা ওষুধ দেশের মানুষের ৯৮ শতাংশ ওষুধের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে, যা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের পক্ষে এখনো সম্ভব হয়ে উঠেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওষুধ শিল্পকে ২০১৮ সালের ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল থেকে জানা যায়, উন্নয়নশীল ৪৮টি দেশের মধ্যে ওষুধ উৎপাদনে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, এক দুই তিন করে ধীরে ধীরে ওষুধ রফতানিতেও শীর্ষস্থানে পৌঁছে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছে দেশী-বিদেশী দুই শতাধিক কোম্পানি। ১৬০টি দেশে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রফতানি হচ্ছে।
বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বছরে ২৫ হাজার কোটি টাকার ওষুধ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে যাচ্ছে। আর এ রফতানির চিত্রও দ্রুত বাড়ছে। বিগত পাঁচ বছরে এ খাতে রফতানি বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে এ খাতের যে প্রবৃদ্ধি তা ধরে রাখতে পারলে ২০২৩ সালে এটি পাঁচ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে আশা করছেন এ খাতসংশ্লিষ্টরা।
আমাদের দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য ১২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিশেষায়িত পেশাভিত্তিক বিষয় পড়ানো হয়। কিন্তু ফার্মাসিস্টদের প্রতি আমাদের সরকারের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে অনেক ফার্মাসিস্ট বিদেশে পাড়ি জমান।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে, উন্নত স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করার জন্য ফার্মাসিস্টদের ৫৫ শতাংশ কমিউনিটি ফার্মেসি, ৩০ শতাংশ হসপিটাল ফার্মেসি, ৫ শতাংশ ম্যানুফ্যাকচারিং, ৫ শতাংশ সরকারি সংস্থায় এবং ৫ শতাংশ অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার নিয়ম রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে কমিউনিটি কিংবা হসপিটাল ফার্মেসিতে কোনো গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নেই বললেই চলে। সেখানে উন্নত দেশগুলোয় দায়িত্বে থাকা ডাক্তারের কাজ রোগ নির্ণয় ও রোগ যাচাই করা এবং ফার্মাসিস্ট সেই রোগ ও রোগের মাত্রা দেখে ওষুধ দিয়ে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশে এই চিত্র একবারেই ভিন্ন। রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে ওষুধ প্রেসক্রাইব সবই ডাক্তার করে থাকেন। ফলে স্বল্পসংখ্যক ডাক্তার দিয়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর যথার্থ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে ফার্মাসিস্টদের স্বাস্থ্যখাতে নিয়োগ ও মূল্যায়ন এখন সময়ের সর্বোৎকৃষ্ট দাবি। এর জন্য অনতিবিলম্বে সরকারের আন্তরিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
tanvirahmedcou555@gmail.com
বাংলাদেশে তৈরি করা ওষুধ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশেই সুনামের সাথে রফতানি হচ্ছে। একঝাঁক ফার্মাসিস্ট, যারা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে পরম মমতায় তৈরি করেন লাখ...
