দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কৃষি শিক্ষার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। অপার সম্ভাবনায় গড়ে উঠে প্রতিটি প্রাণ এই সুবিশাল ও মনোরম ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের হলে থাকলেও ময়মনসিংহ শহরে থাকা শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। এ ছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়টি শহর থেকে বেশ দূরবর্তী স্থানে। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের শহরে নানা কাজে যেতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত করেন। কিন্তু পরিবহন শাখায় সকাল-বিকেল বাস থাকলেও তা এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর পরিবহন চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে বাসে যাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে যেতে হয়। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য বাসে দাঁড়িয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর।
সকাল ৮.২৫টার বাসে অনেক ভিড় হয়, কারণ সকাল ৯টা এবং ১০টায় বিভিন্ন অনুষদের ক্লাস শুরু হয়। সকাল ৮টায় দু’টি বাস শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসে। যে কারণে সব শিক্ষার্থীর বাসে সিট সঙ্কুলান হয় না। বিকেলে ৪টা ও ৫টায় বাস ক্যাম্পাস থেকে শহরে যায়। বিকেলের ভিড়টা তুলনামূলক একটু বেশি। কারণ বিকেলে ওই সময়টাতে সবার ক্লাস শেষ হয় এবং শহরে বিভিন্ন কাজে শিক্ষার্থীদের যেতে হয়। বিকেল ৪টায় দু’টি বাসই টাউনহলে গেলেও চরপাড়া যাওয়ার কোনো বাস নেই। ৫টায় একটি বাস চরপাড়া যায় এবং দু’টি বাস যায় টাউনহলে। তিনটি বাস থাকা সত্ত্বেও বাসে সিটের সঙ্কুলান হয় না। অনেক ছাত্র আছেন তারা পড়ালেখার পাশাপাশি শহরে গিয়ে প্রাইভেট পড়ান। তাই বিকেলে ক্লাস শেষ করে তারা ৫টার বাসে শহরে পড়াতে যান। এর কারণেও তখন অনেক ভিড় হয়। আবার বিকেল ৫টার পরে একেবারে রাত ৮.৪০টায় একটি বাস যায় ক্যাম্পাস থেকে এবং রাত ৯.২০টায় শহর থেকে ছেড়ে ক্যাম্পাসে আসে। এর মাধ্যে কোনো বাস চলাচল করে না। তাই শিক্ষার্থীদের অনেক অসুবিধা হয় শহরে যেতে লোকাল অটো বা রিকশা দিয়ে। অন্য দিকে, ছাত্রছাত্রীদের জন্য বাসের অপেক্ষা করার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই ক্যাম্পাসে। বিকেলে তাই সবাই ক্যাম্পাসের জব্বারের মোড়ে অপেক্ষা করে বাসের জন্য। শিক্ষার্থীদের জন্য বাসস্টেশন না থাকায় তারা রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে বাসের জন্য। এটি অনেক অস্বস্তির কারণ হয় শিক্ষার্থীদের জন্য। তাই সব সমস্যার সমাধানের জন্য সকাল ৯টায় একটি বাস দিতে হবে, যা শহর থেকে ছেড়ে আসবে। তাহলে সকাল ১০টায় যাদের ক্লাস আছে তাদের ৮টার বাসে আসতে হবে না। আবার এক ঘণ্টা আগে এসে বসে থাকতে হবে না, যাদের সকাল ১০টায় ক্লাস আছে। বিকেল ৪টায় একটি বাস বাড়াতে হবে যা চরপাড়ার উদ্দেশে যাবে এবং বিকেল ৫টায় আরেকটি বাস বাড়াতে হবে। যেহেতু প্রতিটি বাসে ৫০টি করে সিট আছে। তাই চারটি বাস বিকেল ৫টায় ছাড়লে তাহলে আর বাসে কাউকে দাঁড়িয়ে যেতে হবে না। এবং সন্ধ্যায় কোনো বাস নেই শিডিউলে। তাই সন্ধ্যা ৭টায় একটি বাস দেয়া হলে অনেকের জন্য সুবিধা হবে শহরে যেতে এবং শহর থেকে কাজ শেষ করে ফিরতে। অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষার্থী বাসে কর্মচারীরাও যাতায়াত করেন। তাদের জন্য আলাদা বাস থাকলেও তারা শিক্ষার্থী বাসে ওঠেন, ফলে শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে যেতে হয়। তাই বাসে ওঠার সময় বাস কার্ড দেখিয়ে বাসে উঠালে এ সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া যাবে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য জব্বারের মোড়ে একটি ছাউনির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তাদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে না হয়।
লেখক : শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ