বাংলাদেশে গায়ের জোরে হিন্দুদের ধর্মান্তরিত ও মন্দির দখল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্য সুব্রামনিয়াম স্বামী। এটা বন্ধ না হলে বাংলাদেশ দখল করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
প্রতিবেশী ভারতকে আমরা আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র বলে থাকি। কোন বিবেকে তারা এসব কথা বলতে পারেন? এতটা ঔদ্ধত্য ও স্পর্ধা কিভাবে দেখানো যায়? বিজেপির উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িকতা, আর কত দিন?
কষ্টে আছে ভারতের মুসলমানেরা। বাংলাদেশের সরকার হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনের সব কিছুই করে থাকে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, সেনা, নৌ ও বিমান, বিডিআর, পুলিশ, ব্যাংক, বীমাসহ সর্বত্রই হিন্দুরা কর্মরত। এসব সেক্টরে ভারতে কত পার্সেন্ট মুসলমান কর্মরত? সুব্রামনিয়াম স্বামীর দেশে মুসলমানদের কোনো নিরাপত্তা নেই। সীমান্তে বাংলাদেশী কৃষকেরা নিজ জমিতে কাজ করার সময়, নিজ জলসীমায় এ দেশের জেলে মাছ ধরার সময়ও গুলিবিদ্ধ হয়ে থাকে। সামান্য অজুহাতে পাখির মতো বাংলাদেশীদের গুলি করে মেরে আসছে বিএসএফ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের গুলিতে বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পৃথিবীব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠেছিল। লাখ লাখ ভারতীয় বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাস করে। তাদের কেউ কেউ চোরাকারবারিও করে থাকে।
হিন্দুত্বের প্রশ্নে ভারতীয় রাজ্যসভার সদস্য সুব্রামনিয়াম স্বামী দাবি করেন, ভারতের তিনটি হিন্দু মন্দির পুনরুদ্ধার করতে হবে। অযোধ্যার রামমন্দির, কাশীর বিশ্বনাথ মন্দির ও মথুরার কৃষ্ণ মন্দিরের কথা বলেন তিনি। তার মতে, ‘এই তিন মন্দিরসহ ৪০ হাজার মন্দির মুসলিম আগ্রাসনের সময় ধ্বংস হয়েছিল। তবে তিনটি মন্দির মুসলিমরা স্বেচ্ছায় দিলে বাকি সব মন্দির ছেড়ে দিতে আমরা প্রস্তুত। না হলে সবই আমরা দখল করে নেবো। এটাই হলো হিন্দুদের শ্রীকৃষ্ণ প্যাকেজ।’ তাহলে কি ভারতকে আগে মুসলমানদের শাসনে ফিরিয়ে দিতে হবে? নিজেদের দিকে না তাকিয়েই অভিযোগ করছেন স্বামী। তাদের দেশেই উচ্চবর্ণ, নিম্নবর্ণ ও ধর্মীয় বিভেদ চরমে। যেখানে প্রতিনিয়ত নিম্নবর্ণের মানুষেরা উচ্চবর্ণের কাছে নিপীড়িত হয়ে থাকে।
সুব্রামনিয়াম স্বামী আয়তনে বড় একটি রাষ্ট্রের সংসদ সদস্য হতে পারেন; কিন্তু মানসিকতা? হয়তো তার এত অহঙ্কারের মূলে আছে বিজেপির হিন্দুত্ববাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। ইতিহাস কিন্তু কখনই কোনো অহঙ্কারী, অবিনয়ী, দাম্ভিকের শুভ পরিণতির কথা বলে না। স্বামীরা নিজেদের চরকায় তেল দিন। বুঝতে হবে, এটা আসাম নয়, এটা যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্যের সাথে জড়িয়ে আছে নদী। কিন্তু এখন সে নদী হারিয়ে যাচ্ছে। বিস্তীর্ণ জনপদে পানির জন্য হাহাকার। বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে বহু নদী হারিয়ে যাওয়ার মূল কারণ বৃহত্তম নদী গঙ্গা বা পদ্মার উজানে প্রায় ১০০টি বাঁধ দিয়ে ভারত কর্তৃক পানি প্রত্যাহার করা। এ ছাড়াও তিস্তা নদীর উজানে ভারতের গজলডোবায় বাঁধ দেয়ার কারণে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রায় তিন লাখ হেক্টর জমির সেচ বিপর্যয়ের সাথে টিউবওয়েলেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পানির মারাত্মক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আর বাংলাদেশ মরুকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর প্রভাবে ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে আমাদের বহু শিল্পকারখানা।
সুব্রামনিয়াম স্বামীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে বাংলাদেশ সরকারের যেন কোনো রকম দুর্বল বা নতজানু পররাষ্ট্র নীতির পরিচয় না দেয়, এটাই আশা দেশের শান্তিপ্রিয় সর্বসাধারণের।
abunoman1972@gmail.com