সাধারণত উচ্চশিক্ষার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার মাধ্যমে। গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করলে সমাজ আপনাকে ‘উচ্চশিক্ষিত’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে; অর্থাৎ আপনি সমাজের একজন সচেতন নাগরিক হবেন যার কাছ থেকে সমাজ বা দেশ অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। এবার আসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথায়। এটি ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ নামে পরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিঃসন্দেহে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবী শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করে। আর ওদের দিকে তাকিয়ে আছে সমগ্র দেশ। যারা দেশ পরিবর্তন করবে, তাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে; তারা দেশকে স্বপ্ন দেখাতে শিখাবে। এবার একটা গতানুগতিক কথা বলতেই হচ্ছে। আমাদের শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা পর্যন্ত দেশ আমাদের জন্য কত টাকা খরচ করে থাকে তা আমরা ভালোই জানি। কী জরুরি দরকার ছিল ১০ শ্রেণী পর্যন্ত ফ্রি বই দেয়ার? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে মাত্র ২৫-৩০ হাজার টাকায় অনার্স সম্পন্ন করা যায়। দেশ যেহেতু আমাদের জন্য এত খরচ করে, তখন দেশও নিশ্চয় আমাদের কাছে থেকে কিছু প্রত্যাশা করে। মা-বাবা আমাদের কষ্ট করে মানুষ করে থাকেন। আমাদের জন্য অনেক টাকা খরচ করেন তারা। আর আমরা মানুষ হওয়ার পর তাদের প্রতি যে দায়িত্ব তা পালন না করলে যেমন হবে, ঠিক দেশের প্রতি পালন না করলেও তা হবে।
গত ৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২১১১১ জন গ্রাজুয়েট অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের সবাই গর্বিত গ্রাজুয়েট হিসেবে গ্রহণ করছেন। ফেসবুকে কিছু ছবি ভাইরাল হতে দেখা গেল। একটি ছবিতে দেখা যায়, একজন গ্রাজুয়েট তার গাউনটা এক রিকশাচালকের গায়ে পরিয়ে স্যালুট করছেন। সত্যিই তারা স্যালুট পাওয়ার যোগ্য। তাদের ঋণের ভার বহন করে আপনি গ্রাজুয়েট।
একজন গ্রাজুয়েট হিসেবে দেশের উচ্চ পদগুলো দখল করবেন নিঃসন্দেহে। ওখানে আপনার ওপর নির্ভর করবে হাজারো মানুষের ভাগ্য। যাদের টাকায় আপনি এতটা পথ এসেছেন, আপনি যদি তাদের সাথে প্রতারণা করেন, গর্বিত গ্রাজুয়েট ঠিকই হবেন; কিন্তু আপনি একজন গর্হিত নাগরিক হয়ে যাবেন। আপনাদের দেখে অন্যরা শিক্ষা নেবে, আপনাদের অনুসরণ করবে তারা। এভাবে আপনি শুধু নিজেকে নয় পুরো সমাজ কিংবা জাতিকে অধঃপতনের পথে নিয়ে যেতে পারেন। যদি নিজ নিজ স্থান হতে প্রত্যেকে নিজেকে গর্বিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলেন দেশ বা সমাজ সঠিক পথে চলবে; সমাজে কালো হাত আর থাকবে না। আপনার শিক্ষার আলোই একমাত্র ওই কালো দূর করতে পারে। আমাদের আলো থাকতে কেন কালো হাত বেছে নেবে?
সমাজের এই দুরবস্থা মূলত কথিত গর্বিত গ্রাজুয়েটদের কারণে। কারণ তারা গর্বিত নাগরিক হতে পারেননি। আমাদের আলো তাদের কালো হাত দূর করবে; মানুষের অন্ধত্ব বা অন্ধ অনুকরণ দূর হবে। এ জন্য প্রয়োজন গর্বিত নাগরিক। কথিত গর্বিত গ্রাজুয়েট আগে ছিল এবং সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টিতে তাদের অনেকের ভূমিকাও কম নয়। সমাজ এখন গর্বিত বা আদর্শ নাগরিক চায়। আমাদেরও সবার প্রত্যাশা, প্রত্যেক গর্বিত গ্রাজুয়েট গর্বিত নাগরিক হবেন। তারা সমাজের সব কালোকে দূর করবেন; সমাজের অন্ধত্বে তারা জ্ঞানচক্ষু দান করবেন। তাদের এই আলোতে সমাজ হবে আরো বিকশিত। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সাধারণত উচ্চশিক্ষার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার মাধ্যমে। গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করলে সমাজ আপনাকে ‘উচ্চশিক্ষিত’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে; অর্থাৎ আপনি সমাজের একজন সচেতন নাগরিক হবেন...
