বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে নির্বাচনকালীন অরাজকতা কিংবা সহিংসতার ঘটনা ঘটে থাকে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, এমনকি জীবননাশের নজির বহু। এবার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা আসন্ন সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তার স্বার্থে বাস্তবায়নের দাবি রাখে। যথাযথ পরিকল্পনা করে তা কার্যকর করতে কর্তৃপক্ষের সতর্ক দৃষ্টি অপরিহার্য। নির্বাচনকালীন অত্যাবশ্যকীয় নিয়মকানুন পালনে কড়াকড়ি প্রয়োজন। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে কোনো দল গণতন্ত্র কায়েম করতে পারে না।
নির্বাচন বিশেষ দলকে জেতানোর উদ্দেশ্যে নয়, জনগণের ভোটে প্রতিনিধি করার জন্যই হয়ে থাকে। এর জন্য প্রথম প্রয়োজন প্রতিটি দলকে সর্বাবস্থায় নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের ঘরের বাইরে বেরোনো যদি কঠিন হয়ে যায়, তাতে সংশ্লিষ্ট দলের ক্ষমতায় গিয়ে শান্তিরক্ষার প্রতিশ্রুতি কতটুকু প্রমাণ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশৃঙ্খলা যারাই করুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় অবিলম্বে আনা প্রয়োজন। নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী যে বা যারা হোক, ওদের দল কিংবা মার্কা যেটাই হোক, তারা আইনের আওতায় আসতে বাধ্য।
তাই নির্বাচনকালীন ও পরবর্তী সময়ে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সর্বত্র শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মানুষের মনে ক্ষোভ, ভয় কিংবা অস্থিরতা তৈরি করে গণতন্ত্র ভিত্তিক দেশ গঠন করা কখনোই সম্ভব নয়।
প্রচারণার উদ্দেশ্যে মাইকের ব্যবহার অত্যন্ত বিরক্তিকর একটি পন্থা। এ জন্য কিছু নিয়মকানুন থাকলেও সেগুলো পালন করা হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলের ক্যাম্পগুলোকে ঘিরে বখাটেদের আড্ডায় রাস্তায় স্বস্তিতে হাঁটার উপায় থাকে না।
এ ছাড়া, নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে অরাজকতা, এমনকি হতাহতের ঘটনাও ঘটে।
সমস্যাগুলো বিবেচনায় এনে এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। নিরাপত্তা শুধু নির্বাচনের দিনে নয়, বরং আগে থেকে জোরদার করে সাধারণ মানুষের ভীতি দূর করতে জোরদার পদক্ষেপ নিতে হবে। দলমত নির্বিশেষে নিরাপত্তা চাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
