অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জঙ্গি-নাশকতা-সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গণতান্ত্রিক সর্বাধুনিক এক নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবেÑ এটিই কাম্য।
বহুলালোচিত জামায়াতে ইসলামী সেই বাংলাদেশ নির্মাণে কতটা কার্যকর ও সহায়ক হবে, নাকি দেশকে আবার পেছনে ঠেলে দেবে, সেই ব্যাপারে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।
আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণে জামায়াত দেশের ‘স্বাধীনতাবিরোধী’। এর প্রথমসারির কয়েকজন নেতা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। অন্য কয়েকজন সাজার দণ্ড পেয়েছেন।
আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ও ২০১৪’র সংসদ নির্বাচনের আগে-পরের সহিংস ঘটনার জন্য প্রধানত সরকার ও তার ঘনিষ্ঠ মহলের চোখে তারা সন্ত্রাসী সংগঠন ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অভিযুক্ত। গঠনতন্ত্রের কিছু ধারার সাথে বর্তমান সংবিধানের কিছু ধারা সাংঘর্ষিক হওয়ায় তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
অপর দিকে, দলটির অভিযোগ হলোÑ ১০ বছর ধরে সরকার তাদের ওপর চরম জুলম নির্যাতন চালাচ্ছে। তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে রেখেছে এবং দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বঞ্চিত করেছে।
এ দেশের জনগণ জামায়াতকে কিভাবে মূল্যায়ন করে সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়Ñ ২০১৪ সালে চতুর্থ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে জনগণ তাদের উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে ৩৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ১২৯ জন ও ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা ৩৬ জনসহ সর্বমোট ২০১ জনকে।
আরো দেখা যায়, ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামি বা ডেমোক্র্যাটিক লীগ থেকে জামায়াতের ছয়জন, নিজেদের নামে ১৯৮৬ সালে ১০ জন, ১৯৯১ সালে ১৮ জন, ১৯৯৬ সালে ৩ জন, ২০০১ সালে ১৭ জন, সর্বশেষ ২০০৮ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ জন সদস্য জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেয়েছেন।
২০০১ সালে ৩১টি আসনে ভোটযুদ্ধে জামায়াত ১৭ আসন পায়। ভোট সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ২৭ হাজার। ২০০৮ সালে ৩৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেল ২টি আসন। ভোট পায় ৩২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯টি। তাতে ভোট বৃদ্ধি পায় ৩৫ শতাংশ। আসন প্রতি ভোট পড়ে গড়ে ৮৬ হাজার ২৭৬টি। ২০০১ সালে ছিল ৭৫ হাজার ৮৬২টি। ২০১৪’র নির্বাচনে তারা অংশ নেয়নি। এবারই প্রথম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াতের ২২ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে পক্ষ-বিপক্ষে জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড়ও বইছে।
এ দিকে, জামায়াত নেতারা বলে আসছেন তারা ষড়যন্ত্রের শিকার। তারা আদর্শবাদী, দুর্নীতিমুক্ত একটি ইসলামি দল বলে নিজেদের দাবি করেছেন। তারা এখন স্বাধীনতার চেতনায় শোষণ, দুর্নীতিমুক্ত, আলোকিত, উন্নয়নশীল এক নতুন বাংলাদেশ গড়তে চান বলে ঘোষণা করছেন। আমরা চাই, নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হোক। এবার জামায়াতকে জনগণ কিভাবে মূল্যায়ন করে ৩০ ডিসেম্বর, তা দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী। হ
লেখক : জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত
অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জঙ্গি-নাশকতা-সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গণতান্ত্রিক সর্বাধুনিক এক নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবেÑ এটিই কাম্য।বহুলালোচিত জামায়াতে ইসলামী সেই...
