মহাকালের আবর্তে আমরা এখন খ্রিষ্টীয় ২০১৯ সালে। গত সোমবার বিদায় নিয়েছে ২০১৮। ঠিক এর আগের দিন ৩০ ডিসেম্বর দেশে অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে। এতে মহাখুশি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের পরপরই আমাদের জীবনে এসেছে নতুন বছর ২০১৯। নতুন বছরে হিংসাবিদ্বেষ, ভেদাভেদ ভুলে দেশের উন্নয়নে মনোযোগ দেয়াই জনপ্রত্যাশা। একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে সচেষ্ট হওয়া। এটা সম্ভব হলে পুরনো দিনের শোক-অপ্রাপ্তি-আক্ষেপ ভুলে অমিত সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাবে দেশ।
কাক্সিক্ষত প্রত্যাশা বিমূর্ত থেকে মূর্ত করতে চাইলে সমাজের সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে শপথ নিতে হবে আমাদের। নতুন বছরে একটি আত্মমর্যাদাশীল, গণতান্ত্রিক ও উন্নত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করবÑ এই হোক সম্মিলিত অঙ্গীকার। তবে একটা দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার বিষয়টি কেবল ওই দেশের নাগরিকদের চাওয়ার ওপর নির্ভর করে না। সেই দেশের সরকার যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তবেই সম্ভব কাক্সিক্ষত উন্নয়ন। দেশের উন্নয়নে সরকার হলো প্রধান নিয়ামক শক্তি, যা জনপ্রত্যাশা পূরণ করে থাকে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ইশতেহারে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ‘গ্রাম হবে শহর’ উল্লেখ করে ভোটারদের কাছে ২১টি অঙ্গীকার করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকাশিত ইশতেহারে অঙ্গীকারগুলো হচ্ছেÑ প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ। তরুণ-যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ। নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা ও শিশুকল্যাণ। পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও মাদক নির্মূল। মেগা প্রকল্পগুলোর দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা। দারিদ্র্য নির্মূল। সব স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি। সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা। সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাÑ লক্ষ্য যান্ত্রিকীকরণ। দক্ষ ও জনসেবামুখী প্রশাসন। জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা গড়ে তোলা। ব্লু-ইকোনমি, সমুদ্র সম্পদ উন্নয়ন। নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা। প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অটিজম কল্যাণ। টেকসই উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নসমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
ইশতেহারে থাকা অঙ্গীকারগুলো সাধুবাদ পাওয়ার দাবিদার। নতুন বছরে সরকার যেন জনগণের সাথে দেয়া অঙ্গীকারগুলো ভুলে না যায়। বিরোধী জোটের নেতাকর্মী দমন-নিপীড়ন নয়; ‘ক্ষমতা নয় মমতা’ দেখিয়ে দেশ চালাবে সরকারÑ এমন প্রত্যাশা সবার।
লেখক : সাংবাদিক
emdad.online24@gmail.com