ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন ও তিউনিসিয়ায় এক সময় প্রতাপশালী স্বৈরশাসকেরা ক্ষমতায় ছিলেন। এসব দেশে সে সময় যে কয়েকজন শাসক ক্ষতাসীন ছিলেন, তারা তাদের সমকালে দুনিয়ায় পরিচিত মুখ ছিলেন। এ দেশগুলোতে নির্বাচনের কোনো বালাই ছিল না। এসব শাসকের বিরুদ্ধে নিজেদের দেশের নাগরিক টুঁ-শব্দটি পর্যন্ত করতে পারতেন না। এক সময় তাদের করুণ পরিণতি বিশ্ববাসী দেখেছেন। চরম অপমানে তাদের দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। জীবিতাবস্থায় ওইসব স্বৈরশাসকের যারা প্রিয়জন ও বন্ধু ছিলেন তারা ওই কঠিন সময়ে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেননি, উল্টো ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছেন। মজার ব্যাপার হলোÑ এই শাসকেরা জীবিতাবস্থায় তাদের অনেক অপকর্ম আড়াল করতে পারলেও নিজেদের স্বৈরাচারী আচরণ ঢাকতে পারেননি। স্বৈরাচারী তকমা নিয়েই তারা শাসনক্ষমতায় ছিলেন। ক্ষমতার মসনদে থাকাকালে তাদের তোষামোদি করার লোকের অভাব ছিল না। যখন তারা ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন তোষামোদকারী কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে বর্তমান সময়ে অনেক দেশে গণতন্ত্রের মোড়কে বহু স্বৈরাচারী শাসক নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং দীর্ঘায়িত করতে নির্বাচনী পদ্ধতি ভোট গ্রহণে ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে থাকেন। এতে নিজের দেশের নাগরিকদের ভোটাধিকার খর্ব হলেও তাদের কিছু যায় আসে না। একই সাথে ওইসব দেশে মিডিয়াকে বশীভূত করে রাখা হয়। এসব কিছুই তারা করেন নিজেদের ক্ষমতা প্রলম্বিত করতে। দিন যত যাচ্ছে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আরো সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর হচ্ছে। ফলে প্রযুক্তিকেও ব্যবহার করছেন ওইসব স্বৈরাচারী শাসক নিজেদের ক্ষমতা প্রলম্বিত করতে।
অন্য দিকে সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যবাদী শক্তি তাদের নিজেদের ক্রীড়নক হিসেবে এই শাসকদের অপব্যবহার করছেন। আগের মতো সশস্ত্র যুদ্ধ করে এখন পররাষ্ট্র দখলের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। এসেছে নতুন কৌশল। সশস্ত্র যুদ্ধ ছাড়াই বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা বশীভূত করা যাচ্ছে। এ জন্যই দুনিয়ার পরাশক্তিগুলো দেশে দেশে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দমতো সরকার ক্ষমতায় বসিয়ে স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। ফলে অনেক দেশেই গণতন্ত্রের মোড়কে স্বৈরাচারী শাসকের ক্ষমতা হচ্ছে দীর্ঘায়িত। হ
ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন ও তিউনিসিয়ায় এক সময় প্রতাপশালী স্বৈরশাসকেরা ক্ষমতায় ছিলেন। এসব দেশে সে সময় যে কয়েকজন শাসক ক্ষতাসীন ছিলেন, তারা তাদের সমকালে দুনিয়ায় পরিচিত...
