দেশে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে মন্ত্রণালয় রয়েছে ৩৯টি। এর মধ্যে তরুণসমাজের প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী মন্ত্রণালয় হচ্ছেÑ শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এই চারটি মন্ত্রণালয় তরুণদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তরুণদের প্রথম চাহিদা শিক্ষা। এরপর প্রয়োজন কর্মসংস্থান। আর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সাথে এখন জড়িত আইটি সেক্টর। একজন তরুণ যখন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেতে চান, তখন তাকে সহায়তা নিতে হয় প্রযুক্তির। বর্তমানে দেশে আইটির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
নতুন সরকার আইটি সেক্টরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও দেবে বলে তরুণসমাজ প্রত্যাশা করে। তাই শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এবং তরুণদের কল্যাণে যাতে আইটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে তরুণসমাজ, সে ব্যাপারে নতুন সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা অনেক।
বর্তমানে কিছু চক্র ফেসবুকের মতো সোস্যাল মিডিয়ায় গ্রাহকের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যাতে সঠিক প্রয়োগ হয়; সে ব্যাপারেও দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
গত এক দশকে দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে মোটাদাগে কিছু বিতর্ক থাকলেও সরকারের বিনামূল্যে বই বিতরণ কর্মসূচি নিঃসন্দেহে একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। বর্তমানে এ মন্ত্রণালয়ে যিনি নতুন মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন, তরুণসমাজ তার কাছে আশা করে, তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাঁসের হার শূন্য শতাংশে নিয়ে আসবেন। তা ছাড়া উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেবেন।
মানুষের মৌলিক পাঁচটি চাহিদার একটি শিক্ষা। তাই শিক্ষার সর্বোচ্চ পরিসর নিশ্চিত করতেও নতুন শিক্ষামন্ত্রী ভূমিকা রাখবেন বলে আশা তরুণসমাজের।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্যÑ শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য কমানো। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার কমলেও নতুন কর্মসংস্থান তেমন সৃষ্টি হচ্ছে না। প্রবৃদ্ধি হলেও সেই তুলনায় দেশে বাড়ছে না কর্মসংস্থান। ফলে বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী কর্মক্ষম মানুষ ছিল ১০ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে বেকার ২৬ লাখ ৮০ হাজার জন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ। এ ক্ষেত্রে এক বছরে বেকার বেড়েছে ৮০ হাজার। উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত সর্বশেষ ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এ মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রীর কাছে তরুণদের আহ্বান, তিনি যাতে তরুণসমাজের প্রতি বিশেষ নজর দেন। একই সাথে কর্মসংস্থানে মেধাভিত্তিক এবং মেধাবীদের প্রাধান্য দেন। কর্মক্ষেত্র যাতে দুর্নীতিমুক্ত হয়, সে ব্যাপারেও নজর দেয়া হয়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তরুণদের পছন্দের ও অতি প্রয়োজনীয়। এ মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রীর কাছে তরুণদের চাওয়া, তরুণ সমাজকে মাদকের রাহুর গ্রাস থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় খেলাধুলার প্রসারে সচেষ্ট হবেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছেÑ ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ যেখানে লক্ষ্য ও পরিকল্পনা হিসেবে রয়েছে ‘শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি’ এবং ‘আত্মকর্মসংস্থান ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি’ যা বাস্তবায়নে প্রয়োজন এ মন্ত্রণালয়ের কার্যকরী ভূমিকা। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, জেড এইচ সিকদার ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি