উপকূলীয় এলাকায় শুষ্ক মওসুমের শুরুতেই খাবার পানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকার প্রায় সাত কোটি মানুষ বিশুদ্ধ পানির অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বর্ষা মওসুমে উপকূলীয় এলাকার মানুষ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে চাহিদা মেটাতে পারলেও শুষ্ক মওসুমে এ সমস্যা তীব্র হয়। ফলে খাবার পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দেয়।
এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, দেশের ৩৫ শতাংশ মানুষ উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। কিন্তু শুষ্ক মওসুমে পুকুরের পানি পান করে জীবন ধারণ করে এ অঞ্চলের লাখো মানুষ। ফলে উপকূলীয় এলাকার বহু মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পানির স্তর নি¤œগামী হওয়ায় ২০৫০ সালের মধ্যে এশিয়া অঞ্চলে তীব্র পানি সঙ্কট দেখা দেবে। এশিয়া অঞ্চলের ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রে পানির তাপমাত্রা বাড়বে। সমুদ্রের পানির স্তর বেড়ে ম্যানগ্রোভ অরণ্য তলিয়ে যাবে। ৩০ বছরে এশিয়ার ৩০ শতাংশ প্রবাল প্রাচীর নষ্ট হবে।
শুষ্ক মওসুমে আমাদের দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এক কলস পানি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হওয়ার মতো উদ্বেগজনক খবরও শোনা যাচ্ছে। খরা মওসুমে উপকূলবাসী চার-পাঁচ মাস এ অবস্থার সম্মুখীন হয়ে থাকে। খুলনা বিভাগের আইলা ও সিডর-দুর্গত এলাকায় এ সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে পানীয়জলের গুণাগুণ ও শস্যের উৎপাদন কমে আসছে এ অঞ্চলে।
উপকূলীয় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট জেলায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট তীব্র হচ্ছে দিন দিন। উপকূলীয় এলাকায় পুকুরের পানি যারা পান করতেন, এমন লোকজনের মধ্যে বর্তমানে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার পড়েছে। বিভিন্ন কারণে উপকূলীয় এলাকার পানিতে লবণাক্ততা বেড়েছে।
এ অঞ্চলে গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণের বিকল্প আর কোনো পথ নেই। উপকূলীয় এলাকায় হাতেগোনা কিছু গভীর নলকূপ রয়েছে, যা দিয়ে ওই অঞ্চলে পানি সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এ জন্য এ এলাকায় বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণে সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় গভীর নলকূপের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
উপকূলীয় এলাকায় একটি গভীর নলকূপ বসাতে এক লাখ পঞ্চাশ থেকে এক লাখ ষাট হাজার টাকা খরচ হয়। যার সঙ্গতি এ অঞ্চলের গরিব মানুষের সামর্থ্যরে বাইরে। হ
লেখক : সাংবাদিক