মমতাদিদি যেমন ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিবিরোধী জোটের মুখপাত্র নেতা হতে পারবেন না। তেমনি ড. কামাল হোসেনও বাংলাদেশের রাজনীতিতে পার্লামেন্টে নেতা হতে পারবেন না। সম্প্রতি কলকাতার প্রতিষ্ঠিত ব্রিগেড সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই ব্রিগেড সমাবেশের ছোট বড় ৩৪টি রাজনৈতিক দলের নেতা উপস্থিত ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশা ছিল, তিনি ভারতের লোকসভায় বিজেপিবিরোধী জোটের মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করবেন কিছু। কিন্তু তা হলো না।
এত কিছু করেও মমতার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হলো না, উপচে পড়া কলকাতার ব্রিগেড। মঞ্চে ঠাসা নেতার সাথে কথার ফুলঝুরি। কিন্তু ভারতের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত পর্যন্ত তামাম অঞ্চল থেকে আসা আঞ্চলিক নেতাদের ভাষণের প্রতিটি শব্দে কান পেতে রাখলেও মমতা কারো মুখ থেকে এমন একটা কথা বলতে শুনলেন না, যিনি বলছেন এই মহতী ব্রিগেডকে সাক্ষী রেখে বলে যাচ্ছি, আমরা মোদিকে হটিয়ে দিল্লির মসনদে বসাব মমতাদিদিকে। প্রত্যেকেই তাদের সংক্ষিপ্ত ভাষণে বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখলেন মোদির মুণ্ডুপাতে। ফলে সাত মণ নয়, ৭০০ মণ তৈল পুড়িয়ে ব্রিগেডের উঠোনে মমতা যে রাধা নাচাতে চেয়েছিলেন তা হলো না। অথচ মমতা চেয়েছিলেন সবাই তাকে আগামী লোকসভা ভোটে বিজেপি বধকারী বিরোধী জোটের প্রধান মুখ বলে ঘোষণা করুন, যাতে রাহুল গান্ধীর নাম চলে যাবে একেবারে পেছনে। উল্লেখ্য, মমতা এমনিতেই হতাশ হয়েছিলেন অনেক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি সোনিয়া রাহুলের সামনেই শারদ পাওয়ার, দেব গৌড়া, চন্দ্রবাবু, অখিলেশ প্রমুখ বিরোধী মধ্যমণিরা ঘোষণা দেবেন যে, আমরা সবাই ভোটে লড়ব মমতাদিদির নেতৃত্বে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা না হওয়ায় মেগা জনসভার অন্তে আবার শূন্য হয়ে যাওয়া ব্রিগেডের মতোন দশা হবে মমতার প্রাপ্তির ভাঁড়ারে। তবে একটা কথা বলার, আজ কিন্তু প্রত্যেক বক্তাই এদিন তাদের ভাষণের শুরুতে বাংলার ঐতিহ্যের স্বাধীনতা সংগ্রামের বাংলার ভূমিকা এবং বাংলার প্রতিবাদী মানুষের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেই সাথে মমতাকে সবাই ধন্যবাদ দেন এই মহতী জনসভার আয়োজনের জন্য।
দিদি, আমরা বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি করে এসেছি। ’৯০ সালের স্বৈরাচার এরশাদের পতনের আন্দোলনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের প্রথম সারির ছাত্রনেতা ছিলাম। রাজনৈতিক দলে কর্মী হিসেবে মাঠের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি। আপনি যে উদ্দেশ্য সামনে রেখে এগোচ্ছেন বিজেপির বিরুদ্ধে তা সফল হবে না। আপনি বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি তিস্তার পানি চুক্তি সফল হতে দিচ্ছেন না। বাংলাদেশের মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন। আপনার রাজনীতির উদারতা দেখিয়ে আমাদের বহু আকাক্সিক্ষত তিস্তার পানি দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উন্নয়ন করুন এবং দুর্নীতি বন্ধ করুন। গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে গেল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসল এবং প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা। বিএনপি নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে মাত্র সাতজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। ঐক্য নেতা ড. কামাল হোসেন নিজে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেন না।
বিএনপি ও ঐক্যজোট বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে অনড় না থেকে নির্বাচনে গিয়ে বিএনপির অনেক ক্ষতি করেছে। নির্বাচনে যাওয়াটা বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলন উত্তাপ হারায়। বেগম জিয়াকে জেলে রেখেই শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পান। যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন বিএনপির প্রধান কাজ হবে বেগম জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করা এবং সব নেতাকর্মীকে জেল থেকে মুক্ত করা। দলের সারা বাংলাদেশের নেতাকর্মীকে সংগঠিত করা এবং সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য যে নেতাকর্মীর কাজ করার মতো যোগ্যতা আছে তাদের পদ দিয়ে কাজে গতি বাড়ানো এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন জোরদার করা। এটা হবে বিএনপির মূল কাজ। হ
লেখক : সাবেক ছাত্রনেতা ও সাবেক ট্রাস্টি
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট
