ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম। আজকের জাটকা আগামী দিনের বড় ইলিশ। একটি জটকা পাঁচ-সাত মাসের মধ্যে এক কেজি ওজনের ইলিশে পরিণত হয়। একটি জাটকা পাঁচ টাকা। আর একটি পরিণত ইলিশ ৬০০-৯০০ টাকা। জাটকা রক্ষা করতে পারলে ইলিশ হয়। তা জাতীয় সম্পদে পরিণত হয়। তাই জাটকা ও ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। ডিম ছাড়ার সময় এবং প্রজনন মওসুমে নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও কেউ কেউ অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কখনো গোপনে ও কখনো প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে জাটকাসহ অন্য মাছ ধরে দেশের মৎস্য সম্পদের ক্ষতি করছেন।
জাটকাসহ নদীর অন্যান্য মাছ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং এর সাথে নদীর নাব্যতা এবং গতিকেও সচল রাখতে হবে। নিষিদ্ধ মওসুমে নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা শতভাগ বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। জাটকা রক্ষা করতে পারলে জাতীয় আয় ও রফতানি আয় বাড়বে। জাটকা ও ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনিক অভিযান শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া প্রশাসনিক নজরদারি বাড়াতে হবে। অভিযানে কেউ যেন বাড়তি সুযোগ না পান। অভিযানকে সফল করতে প্রশাসনের পাশাপাশি দেশের সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। আগের চেয়ে ইলিশসহ অন্য মাছের উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি পূরণ হয়েছে আমাদের পুষ্টিচাহিদা। চলতি বছরে ওপরের স্লোগানগুলো কাগজ-কলমে জোরালোভাবে থাকলেও বাস্তবে প্রতিফলন তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। নিয়মিত অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় জেলেরা অবাধে মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মাছ ধরার দৃশ্য দেখলে মনে হয়, প্রশাসন অসহায়। গজারিয়া থেকে হাইমচরের চরভৈরবী, ঈশানবালা, মাঝেরচর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও বরিশালে প্রকাশ্যে প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের বেলায়ই নিষিদ্ধ কারেন্টজাল দিয়ে অবাধে জাটকাসহ অন্যান্য মাছ নিধন চলছে। আর রাতে তো কথাই নেই, যেন অবৈধভাবে মাছ ধরার মহোৎসব চলছে।
জাটকাসহ নদীর অন্যান্য মাছ রক্ষার অভিযান সফল করতে এবং মৎস্য সম্পদকে রক্ষা করতে হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত, কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য টহল জোরদার করতে হবে। জেলে এবং নাগরিকদের আরো সচেতনতা বাড়াতে হবে। স্থানীয়পর্যায়ে সভা-সমাবেশ, লিফলেট, ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচার চালাতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও জোরালোভাবে কাজে লাগাতে হবে।
এদিকে প্রকাশ্যে মাছ বিক্রি না হলেও গোপনে বিক্রি হচ্ছে। জেলেদের বোঝাতে হবে, আজকের জাটকা রক্ষা পেলে আগামী দিনে ইলিশ উৎপাদন বাড়বে, তার আয় বাড়বে এবং পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আসবে। জাটকা রক্ষার অভিযানে প্রশাসনের কোনো ধরনের অবহেলা পরিলক্ষিত হলে তা দূর করতে হবে। নিষিদ্ধ সময়ে কোনো জেলে মাছ ধরলে তার জেলে কার্ড বাতিল করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ যেমন থাকতে হবে, তেমনি সচেতনতামূলক কার্যক্রম সমানতালে চালালে রক্ষা পাবে ইলিশ। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা জরুরি। হ
লেখক : চাঁদপুরের হাইমচরের বাসিন্দা