সন্তানের সুখের জন্য মা-বাবা নিজেদের জীবনের সব সুখ স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেন। সন্তানের চাহিদা পূরণে মা-বাবা নিজেদের সব চাওয়া-পাওয়া ত্যাগ করেন। একজন সন্তানকে মানুষ করতে নিজেদের উজাড় করে দিয়ে চেষ্টা করেন বাবা-মা। অথচ দুঃখের বিষয় হলোÑ ইদানীং বৃদ্ধ মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখার প্রবণতা আমাদের দেশে বাড়ছে। পশ্চিমা এই সংস্কৃতি আমাদের সমাজে একেবারেই বেমানান। সন্তানদের এত ভালোবাসা দিয়ে যে মা-বাবা লালন-পালন করেন, বৃদ্ধ বয়সে সেই বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখা সত্যিই বেদনাদায়ক। কিন্তু কিছু সন্তান বড় হয়ে সেই মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়। যারা মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে দেয় তাদের প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত।
মা-বাবা সন্তান বড় করতে গিয়ে, মানুষ করতে গিয়ে এত কষ্ট করলেন; তাদের স্থান কেন হবে বৃদ্ধাশ্রমে? যে মা-বাবা সন্তানকে পৃথিবীতে আনলেন, কষ্ট করে লালন-পালন করলেন। সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করতে এত শ্রম দিলেন, সেই সব সন্তানের ফ্ল্যাটে, বাসায়, কিংবা বাড়িতে মা-বাবার স্থান হবে না কেন? অনেক মা-বাবার একাধিক সন্তান রয়েছে। যদি একাধিক সন্তানকে মা-বাবা স্নেহ মায়ামমতা দিয়ে লালন-পালন করতে পারেন, তাহলে সেই সন্তানের কাছে কেন মা-বাবার স্থান হবে না? আমাদের দেশে কিংবা বহির্বিশ্বে অনেক বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠেছে। যেখানে অনেক বৃদ্ধ মা-বাবার নিঃসঙ্গ জীবন কাটে। সন্তানের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনেন। অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চায় না। কেউবা সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এটি সন্তানের জন্য লজ্জাকর। যে ভালোবাসা দিয়ে বাবা-মা সন্তানকে লালন করেন, ঠিক সেভাবে সন্তানেরও উচিত বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মায়ের দেখাশোনা করা। দেয়া উচিত মা-বাবাকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা। নিজের কাছে রেখে মা-বাবার সেবা করা। এতে বৃদ্ধাশ্রম কমে যাবে। মনে রাখা দরকার, মা-বাবাকে নিজের কাছে রাখেন তাহলে নিজের সন্তানও বৃদ্ধ বয়সে কাছে রাখবে। কেউ যদি মা-বাবাকে বৃদ্ধ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠান; তাহলে তাকেও প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে বৃদ্ধ বয়সে তাকেও বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবে তার সন্তান। এটাই পৃথিবীর নিয়ম। আপনার সন্তান আপনার কাছ থেকে শিখবে। আর আপনার শিখানো জিনিস আপনার ওপর প্রয়োগ করবে।
পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের দেশে বন্ধ হোক বৃদ্ধাশ্রম। সব মা-বাবার শেষ জীবন কাটুক তাদের সন্তানের কাছে। কারো মা-বাবার শেষ দিনগুলো যেন প্রিয় সন্তান ছাড়া না কাটে। ভালো থাকুন দুনিয়ার সব মা-বাবা। হ
লেখক : কর্মকর্তা, মেট্রোপলিটন ভার্সিটি, সিলেট