টিনএজে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আনন্দময় মনে হয়। চোখে থাকে স্বপ্ন। তবে সময়টা বিপজ্জনক আর স্পর্শকাতর। নিজেকে স্থিত রাখা সম্ভব হয় না প্রায়ই। ফলে যেকোনো সময় টিনএজারদের জীবনে ঘটে যেতে পারে অনাকাক্সিক্ষত কোনো ঘটনা। জড়িয়ে পড়তে পারে যেকোনো অপরাধে। এ বয়সে নিজেকে জানা, পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে খাপ খাওয়ানো খুব কষ্টকর। কানে এসে আছড়ে পড়ে নানা কুমন্ত্রণা। মন শুধু চায় বল্গাহীন ঘুরে বেড়াতে। মানতে চায় না কোনো বাধা। সব চাওয়াই যে ঠিক নয়, তা বুঝতে চায় না। মন চায় সবসময় কেউ যেন একজন পাশে থাকুক। সামান্য একটু কোমল স্নেহের হাত কেউ বাড়িয়ে দিলে তাকেই ভেবে বসে সবচেয়ে আপনজন।
বেশির ভাগ টিনএজের আত্মসচেতনতা থাকে কম। কোনো কিছু বিচার-বিশ্লেষণের ক্ষমতা থাকে সামান্য। ইচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক তারা ভুল করে বেশি। তাদের সেসব ভুল ভালোভাবে নিতে চান না অনেক অভিভাবক। ফলে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ বয়সী ছেলেমেয়েদের ভুলগুলো নিয়ে অতিরিক্ত চাপ দেয়া কতটুকু বিবেচনাপ্রসূত তা ভেবে দেখা দরকার।
এ বয়সী বেশির ভাগ ছেলেমেয়ে মোহে আবদ্ধ থাকে। বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে উঠে। সেই ঘোর কাটানোর চেষ্টা করা উচিত অভিভাবকদের। ভুলগুলো দূর করতে আন্তরিকতা নিয়ে কোমল হৃদয়ে বাবা-মাকে বোঝানোর কোনো বিকল্প নেই। জোর করলে হিতে বিপরীত হওয়ার ঘটনা আমাদের সবার সামনে রয়েছে ভুরিভুরি। তাই ভুলগুলোর ক্ষতির দিকগুলো তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে বুদ্ধিমত্তার সাথে। তাদের অবেগকে অসম্মান না করে, গোপনে খোঁজখবর নেয়া জরুরি।
বন্ধুসুলভ আচরণে সন্তানের সাথে খোলা মনে বাবা-মাকে আলোচনা করা খুবই প্রয়োজন। এ বয়সী ছেলেমেয়েদের অল্পতেই মন খারাপ হয়। সামান্যতেই মাথা গরম হয়। বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তাই সন্তানদের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। তাদের সময় দিতে হবে। সারাদিন কী করছে, কোথায় যাচ্ছেÑ এসব খবর রাখতে হবে। তাদের মতামতের প্রাধান্য দিতে হবে। তাদের কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। সন্তানের অনেক বিষয় পছন্দ নাও হতে পারে। অনেক কিছু ভালো নাও লাগতে পারে। তাই বলে তা নিয়ে চড়াও হওয়া অনুচিত। কথাবার্তা, আচরণে বুঝিয়ে দিতে হবে, অভিভাবক হিসেবে আপনি কী চাচ্ছেন। কারণ, ভুল করলে মানুষ শারীরিক ও মানুষিকভাবে ভেঙে পড়ে। তাই হুট করে বাধা না দিয়ে খোলামেলা কথা বলার চেষ্টা করতে হবে। সন্তানের জীবনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে নেয়া যেকোনো অভিভাবকের একান্ত দায়িত্ব। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারলে সন্তানের টিনএজ পর্বটা মোকাবেলা করা জটিল কোনো কাজ নয়। আন্তরিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে পরম মমতায় সন্তানকে গড়ে তোলাই এখনকার অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাহলেই সন্তান হবে আলোকিত মানুষ। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
ই-মেইল : ashaduzzamanshahed@gmail.com