শিক্ষা অন্তরের অজ্ঞতা, সঙ্কীর্ণতা দূর করে মানুষকে আলোকিত হতে সাহায্য করে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যও তাই। দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের মন আদৌ আলোকিত করতে পারছে, নাকি সঙ্কীর্ণতার অতল গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছে; তা প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে! তাহলে কি দেশে প্রচলিত বর্তমান শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে? প্রশ্ন যেটিই হোক, দেশ ও জনগণের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণে বাস্তবমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। তার জন্য শিক্ষা কৌশলে সংস্কার আনা প্রয়োজন। প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, এমনকি উচ্চ শিক্ষার মূলস্তর পর্যন্ত নতুন ধারার শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের বড় অংশের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি চাকরি। একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাগ্রহণের উদ্দেশ্যের সাথে এটি কতটুকু যৌক্তিক?
বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদানের উদ্দেশ্য এবং মা-বাবার কাছে সন্তানের শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যের সাথে একটি মিল পাওয়া যায়, তা হলো বাহ্যিক পরিবর্তন। যেখানে মানবিক পরিবর্তন অনুপস্থিত। দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জিপিএ ৫ কেন্দ্রিক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। মা-বাবাও সন্তানের সাথে হাত মিলিয়ে এ ছলনাময়ী খেলাতে অংশ নিচ্ছেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এ থেকে পিছিয়ে নেই।
এই যদি হয় শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থাÑ এ দেশ ও জাতি ছাত্রসমাজের কাছ থেকে কী আশা করতে পারে? বছর শেষে লাখো জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী বেকার বসে আছেন। তারা ব্যক্তিগত জীবনে হতাশা, নিরাশা আর পারিবারিক জীবনে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে কী কোনো পথ অবশিষ্ট নেই? হ্যাঁ,আছে। প্রত্যেককে বাস্তবমুখী শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে, যা প্রত্যেক মানুষকে চিন্তা করতে শেখায়। প্রত্যেকের অন্তরে জ্বেলে দেয় জ্ঞানের এক একটি দীপ্তি। যে রাস্তায় হাঁটলে আলোকময় হয়ে উঠবে তার জীবন সেটি হতে পারে ব্যক্তিগত, সামাজিক অথবা রাষ্ট্রীয় জীবনে। জানা আবশ্যক, বাস্তবমুখী শিক্ষার উৎস কোথায়? কোথা থেকে এ শিক্ষা অর্জন করতে পারি? এই শিক্ষার প্রধান উৎস হলো পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ভালো বই এবং সৎসঙ্গী। একজন ব্যক্তিকে বাস্তবমুখী শিক্ষা অর্জনে মুখ্য ভূমিকা রাখে, তার পরিবার। কেননা পরিবারের মাধ্যমে কোনো মানব শিশু শিক্ষা পেয়ে থাকে, কিভাবে তার জীবনের সব প্রতিকূলতা জয় করে সফলতা অর্জন করতে পারে। এর জন্য বাবা-মা তথা অভিভাবকদের উচিত সন্তানের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা। যেন তার সন্তান ভালো রেজাল্ট নয়, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম। আর ভালো বই এবং সৎসঙ্গীও শিক্ষার একটি উপাদান। ভালো বই মানুষের জ্ঞান সম্প্রসারণে এবং আত্মশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। অন্য দিকে সৎসঙ্গী মানুষকে সৎ উপদেশ, বিপদে সাহায্য, ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করেন। এতে করে একজন মানুষ আত্মপ্রতিষ্ঠিত হতে অনুপ্রেরণা পায়। সাথে সাথে প্রাতিষ্ঠানিক দিক হতে কিভাবে একজন শিক্ষার্থীকে যথাযথ বাস্তবমুখী শিক্ষা দেয়া যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ