জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখনো আমাদের দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছেন। এ ছাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মসংস্থানের উৎস হলো কৃষি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে অনুসরণীয়। ধান, গম ও ভুট্টায় বিশ্বের গড় উৎপাদন পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সবজি, চাল ও মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ভালো অবস্থানে। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগসহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে বাংলাদেশের নাম। কিন্তু যাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আমাদের এ সাফল্য তাদের অবস্থার কতটা পরিবর্তন হয়েছে, তা দেখার বিষয়। প্রতি মওসুমে হাড়ভাঙা খাটুনির পর তারা কি কিছু পাচ্ছেন?
ধানের বাজারদর দেখলে দেখা যায়, প্রতি মণ ৪৫০-৫০০ টাকা। যেখানে একজন কৃষকের প্রতি মণ ধান উৎপাদনে এর থেকেও বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে, সেখানে এ মূল্য খুবই হতাশাজনক। সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় দেখা যায়, একজন কৃষক রাগে ক্ষোভে তার পাকা ধানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। এটি তার প্রতিবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়। কোনো ভালো রেস্টুরেন্টে একবেলা কাচ্চি বিরিয়ানি খেলেই ৫০০ টাকার বেশি খরচ হয়ে যায়। সেখানে পরিশ্রমের ফসল কৃষকের এক মণ ধানের দাম মাত্র ৫০০ টাকা! তাই কৃষকের মুখে হাসি নেই। তারা এখন অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষকেরা কৃষিকাজে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন, ফসল উৎপাদন কমে যাবে। ফলে অবস্থা হবে খুবই নেতিবাচক।
আমাদের অর্থনীতির মূল অবকাঠামো কৃষির ওপর দাঁড়িয়ে, সে কারণে জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষি ও কৃষকের ভূমিকা অপরিমেয়। কৃষি উৎপাদন কম হলে শুধু খাদ্য ঘাটতি দেখা দেবে তাই নয়, সেই সাথে যেসব শিল্প কৃষিভিত্তিক কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল সেসব শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হবে। একই সাথে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হবে আকাশচুম্বী। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্য হঠাৎ থমকে দাঁড়াবে। অন্য দিকে, কৃষি উৎপাদন ভালো হলে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে কৃষকের ভূমিকাই মুখ্য। কৃষকেরা উৎপাদক শ্রেণী। উৎপাদক শ্রেণী হতাশ হলে, উৎপাদন না বাড়লে অর্থনীতিতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। তাই কৃষককে তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য দিতে হবে। সারা বছর খাটুনির পর তাদেরও কিছু পাওয়ার ইচ্ছা থাকে।
একটি বিষয়, সরকারের পরপর দুই মেয়াদে সারের দাম কমানো হয়, ১০ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, সেচের পানির ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করার কথা এবং সেই সাথে এক কোটি ৮২ লাখ কৃষকের মাঝে উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ করা হয়। কিন্তু এসব সুবিধা কৃষকেরা পাচ্ছেন কি না তা তদারকি করা দরকার।
খোঁজ নিলে দেখা যাবে, প্রকৃত কৃষকেরা এগুলোর কিছুই পান না। কেউ পেলেও তা নিতান্তই হাতেগোনা কয়েকজন। বাকিটা কায়েমি স্বার্থবাদীদের পকেটে চলে যায়। বর্তমানে কৃষকের ধানের মূল্যের দিকে নজর দেয়া অতি জরুরি হয়ে পড়েছে, তারা ফসলের প্রকৃত মূল্য যেন পান, সেই পদক্ষেপ সরকারকেই নিতে হবে।
কৃষকের গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ থাকলে দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসবে। ফসলের মাঠে সেই কৃষকের মুখে হাসি চাই, কান্না নয়। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখনো আমাদের দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছেন। এ ছাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মসংস্থানের...
