সারা দেশে বাড়ছে নৃশংস অপরাধ। প্রায় প্রতিদিই ঘটছে দুই-একটি পৈশাচিক ঘটনা। তার মধ্যে দুই-একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শ্রমিক হত্যা, ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, ঘুম থেকে তুলে নিয়ে নিজের সন্তানকে হত্যা করেছে বাবা ইত্যাদি। কোথায় নিরাপদ আমরা? যেন সর্বত্র অনিরাপদের চাদরে আমরা ঢাকা পড়ে আছি। কী ঘরে, কী বাইরে। অনিরপাদ জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন দেশের সাধারণ মানুষ।
কৃষ্ণগহ্বরের কালো ছায়ায় যেন সারা দেশ ঢেকে যাচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য চাই রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং কর্তাব্যক্তিদের কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি প্রজ্ঞা। এগুলো নিশ্চিত করতে পারলে উন্নয়ন আর উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। আর তা না হলে চার পাশের ঘটে যাওয়া অনৈতিক ঘটনাগুলো আমাদের অতলগহ্বরে নিয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে, দেশটা আমাদের সবার। অনাগত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশটা সুন্দর করে সাজিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের। যেখানে তারা বেড়ে উঠবে মনুষ্যত্ব মূল্যবোধ আর নৈতিকতা নিয়ে। তাই এখনই সময় শ্রেণীবৈষম্য রোধের পরিকল্পনা গ্রহণ করা। মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলো অযাচিত হস্তক্ষেপ কেউ পছন্দ করে না। তাই অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি প্রভৃতির বিরুদ্ধে শত-সহস্র প্রতিবাদ। যাদের অতি লোভে দেশে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্ম হচ্ছে, প্রতিদিন মানুষ তার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে, শ্রেণিবৈষম্য তীব্রতর হচ্ছে, বাড়ছে মানুষে মানুষে হানাহানি কোন্দল, লুটপাট, দেশের সম্পদ তছরুপ ইত্যাদি; সেই দুর্বৃত্তদের যত দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা।
এ থেকে মুক্তির জন্য রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধের পাশাপাশি শিক্ষা-গবেষণা, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং খেলাধুলায় আরো বেশি রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। সমাজব্যবস্থায় নতুন জন্ম নেয়া গ্যাং কালচার পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় জীবনে অনৈতিক চর্চা, অনিয়মের প্রাধান্য আর রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নেরই ফসল। এই গ্যাং কালচার বিপজ্জনক হারে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। পৃথিবীর সব কিছুই কোনো না কোনো নিয়মে পরিচালিত হয়। নিয়মের মধ্য দিয়ে তা সুশৃঙ্খলভাবে চলতে থাকে। যখনই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে; তখনই ঘটে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এবং সবার জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে আমরা বিপদসীমা অতিক্রম করতে যাচ্ছি এবং বিপদসীমা অতিক্রম করার আগেই তা রোধ করা জরুরি। যেমনÑ শিশু ও নারী ধর্ষণ, শিশু ও নারী নির্যাতন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, ব্যাংক লুটপাট, বিদেশে অর্থ পাচার, ট্যাক্স ফাঁকি, সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম ইত্যাদি। ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে নৈতিকতা চর্চার পরিবেশ এবং নৈতিকতা চর্চার প্রসার ঘটাতে না পারলে শুধু আইন করে এ গ্যাং কালচার, বিপদসীমা, কৃষ্ণগহ্বরের আশঙ্কা রোধ করা সম্ভব নয়।
অপরাধের সাথে জড়িত পর্দার আড়ালে থাকা কুশীলবদের বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এখনই মোক্ষম সময়। সময়ের প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত নেয়া বুদ্ধিমানের দক্ষতার পরিচয় বহন করে। আমাদের রাষ্ট্র পরিচালকেরাও সেই পথে হাঁটবেন নিশ্চয়। সচেতনতা বাড়ানো এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া শুধু শাস্তি দিয়ে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। সচেতনতা বাড়ানো এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং খেলাধুলায় গুরুত্ব দিতে হবে। হ
লেখক : শিক্ষক