কিছু নারী মাসিকের এক-দু’দিন আগে বা মাসিকের শুরুতে প্রচণ্ড রকমের মাথা ব্যথায় আক্রান্ত হন। এ মাসিককালীন এ মাথা ব্যথাকে বলে মেনসস্ট্রুয়াল মাইগ্রেন বা মাসিককালীন মাথা ব্যথা। রজচক্রের সময় রক্তে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে গেলে মাসিককালীন মাইগ্রেনের দেখা দেয়। এটি পরিবারে মা, বোন, খালা বা অন্য কারো এ সমস্যা থাকলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এ ক্ষেত্রে মাথা ব্যথা একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে শুরু হয়ে তা ধীরে ধীরে তীব্র হতে থাকে এবং এক সময় মেয়েরা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাথা ব্যথার সাথে বমি বমি ভাব থাকতে পারে এমনকি বমিও হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মাইগ্রেনের মতো দেখা বা কথা বলার সমস্যা দেখা যায় না। গর্ভাবস্থায় এ সমস্যা অনেকাংশে কেটে গেলেও শিশুকে দুধ পান করানোর সময় আবার প্রকট আকারে দেখা দেয়। এমনকি মেনোপজের পরেও চলতে পারে এ সমস্যা।
কারণ : এ সমস্যার পেছনে আনেকগুলো কারণ আছে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত পরিশ্রম, অতিরিক্ত অবসন্ন বা ক্লান্তি, অতিরিক্ত উত্তেজিত বা আবেগতাড়িত হলে এটি দেখা দেয়। অতিরিক্ত ধূমপানের কারণেও এটি হতে পারে। পিল খেলেও অনেকের এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসা : এ সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্যসচেতন হতে হবে ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন আনতে হবে। সেই সাথে মাসিকের এক বা দু’দিন আগে থেকে শুরু করে পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত এনএসএআইড জাতীয় যেমন- ইবুপ্রোফেন ও ন্যাপ্রোক্সেন ওষুধ সেবন করলে মাইগ্রেনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ ছাড়া ট্রিপটান যেমন- প্রোভাট্রিপটান, সুমাট্রিপটান, নারাট্রিপটান ও আর্গোট জাতীয় ওষুধ যেমন- আর্গোটামিন টারট্রেট, ডাইহাইড্রোআর্গোটামিন ইত্যাদি সেবন করলে এ ব্যথা প্রতিরোধ করা যায়। তবে হৃদরোগীদের এ ওষুধগুলো সেবন করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ওষুধ দু’টি এক সাথে বা ২৪ ঘণ্টা সময়ের কম ব্যবধানে সেবন করা যাবে না। মেড্রোক্সিপ্রোজেস্টেরন দিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। মাসিককালীন মাইগ্রেন প্রতিরোধ করার জন্য মাসিক শুরুর এক দিন আগে থেকে ফেনোবারবিটন, ক্লোরপ্রোমাজিন ওষুধ সেবন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। বমি বমি ভাব থাকলে মেটোক্লোপ্রামাইড, ফেনোথায়াজিন জাতীয় ওষুধ সেবন করলে এ সমস্যা দূর হবে। যদি বারবার মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে (যেমন- মাসে চারবারের বেশি হলে) বিটা ব্লকার, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, এন্টিডিপ্রেসেন্ট জাতীয় ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ মতো সেবন করা যায়। এ ছাড়া হরমোন থেরাপি ভালো কাজ করে। যেহেতু ইস্ট্রোজেন কমে গেলে মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দেয়। এর উপর ভিত্তি করে অনেক সময় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল সেবন করা যেতে পারে। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, যদি এটি সত্যিকারের মাইগ্রেন হয় তবে পিল সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রতিরোধ : নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে সুষম খাবার খান। কোনো বেলার খাবার খাওয়া বাদ দেবেন না। এতে করে আপনার রক্তে সুগার কমে গিয়ে মাথা ব্যথা আরো বাড়াবে। আবার অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবার, মিষ্টি খাওয়া বাদ দিন। প্রচুর পানি পান করুন, কমপক্ষে দু-তিন লিটার পানি পান করুন। পরিমিত ঘুমান। প্রতিদিন ঘুমানোর একটি নির্দিষ্ট সময় করে নিন। ঘুম ভালো হলে মাইগ্রেনের ব্যথা অনেকাংশে কমে যায়। মাইগ্রেন বাড়ায় এমন মদ, বিয়ার, অ্যালকোহল, চকলেট ও মিষ্টি, পনির ও লবণাক্ত খাবার মাসিকের এক সপ্তাহ আগে থেকে খাওয়া বাদ দিন। প্রতিদিন ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট ধরে হাঁটার অভ্যাস করুন। দুশ্চিন্তা পরিহার করুন।