আজ তোমরা জানবে জগ জলপ্রপাত সম্পর্কে। বর্ষকালে কিংবা বৃষ্টিমুখর দিনে জগ জলপ্রপাতের
রূপ বিশাল ও ভয়ঙ্কর।

জানো, জগ জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়েছে শরবতী নদীতে ? বন্ধুর পশ্চিম ঘাট পর্বতে জলপ্রপাতটি ওই এলাকাকে দিয়েছে মহিমা। ভারতের সবচেয়ে বড় এ জলপ্রপাতের অবস্থান কর্নাটক রাজ্যে। এর নাম জগ জলপ্রপাত। এটি বিশ্বের সপ্তম জলপ্রপাত। জলপতনের ঝড়ো বেগ, পানির শব্দ আর পারিপার্শ্বিক শোভা একে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এখানে নদী হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে ৯ হাজার ফুট নিচে নামতে নামতে চারটি প্রধান জলপ্রপাত তৈরি করেছে; এগুলোর নাম রাজা, রানী, হাউই (রকেট) ও গর্জনকারী। এ চারটি জলপ্রপাতকে একত্রে বলা হয় জগ জলপ্রপাত। স্পষ্টত রাজকীয় ও নির্মল জলপতনের জন্য প্রথমটির নাম হয়েছে রাজা। দ্বিতীয়টির পতন দেখে মনে হয় কোনো সুন্দরী নারী যেন নাচার ছন্দে ছুটে চলতে চলতে পড়ে যাচ্ছে, তাই এর নাম রানী। বিপুল জলরাশি এসে একটি ছোট পথে যেন ভেঙে পড়ছে রকেটের গতিতেÑ তাই তৃতীয়টির নাম রকেট। জলপতনের প্রচণ্ড শব্দ আর গতি সিংহের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে, তাই চতুর্থটির নাম গর্জনকারী।
বর্ষকালে কিংবা বৃষ্টিমুখর দিনে জগ জলপ্রপাতের রূপ বিশাল ও ভয়ঙ্কর। মনে হয়, এ সময় হালকা জলীয়বাষ্পে পুরো এলাকা যেন ছেয়ে ফেলে। আজকাল পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৫০ কিলোমিটার লম্বা হিরেভাস্কর জলাধারের মাধ্যমে শরবতী নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে জগ জলপ্রপাতের পানি পতনের পরিমাণ ও গতিও এই জলাধারের মাধ্যমে অনেকটা নিয়ন্ত্রিত। এ নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও বর্ষা এবং শুষ্ক মৌসুমে জলপ্রপাতের রূপ আলাদাÑ ভয়ঙ্কর ও কিছুটা ম্রিয়মাণ। প্রতি বছর অনেক পর্যটক জগ জলপ্রপাত দেখতে আসেন। এদের সুবিধার জন্য রয়েছে ট্যুরিস্ট হোম, বাংলো, গেস্ট হাউজ ইত্যাদি।
জলপ্রপাতের কাছের বাস স্টেশন জগ ও সাগারা; রেলস্টেশন সিমোগা; বিমানবন্দর ব্যাঙ্গালুর।
জগ জলপ্রপাতে পশ্চিম ঘাটের ঠাণ্ডা আবহাওয়া প্রবণতার ছোঁয়া রয়েছে। গ্রীষ্মকালে এখানে হালকা শীতের কাপড় দরকার হতে পারে। বর্ষাকালে রাতে শীত পড়ে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভীষণ শীত পড়ে। এ সময় গরম কাপড় দরকার।
জগ জলপ্রপাতের সর্বোচ্চ উচ্চতা ২৫৩ মিটার, গড় প্রশস্ততা ৪৭২ মিটার এবং গড় পানিপ্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ১৫৩ ঘনমিটার।
ওয়েবসাইট অবলম্বনে