চুয়াল্লিশ.
‘কেন খালুজান? কোনো উৎসব-পার্বণ আছে?’
‘উহু না, আছে একটা ব্যাপার। তার সাথে তোর নশুর ভালোমন্দও জড়িত। তোকে সব কথা খুলে বলতে নিষেধ আছে। তাও বলছি, নশুদের জন্য যে লটারি হবে তার টাকাটা বাড়িতে আছে। এজন্য রাত জেগে বাড়ি পাহারা দেয়ার লোক দরকার। কালকে ব্যাংকে রাখব। আজ শুক্রবার ব্যাংক বন্ধ ছিল, রাখতে পারিনি। তুই একটা রাত জেগে পাহারা দিস। জানিসই আমার কেমন মরণের ঘুম। একবার ঘুমিয়ে পড়লে আর কোনো সাড় থাকে না।’
‘জি খালুজান। থাকব। বিকেলে যেয়ে নশুরে আমার কাছে নিয়ে আসব। ও আমারে ছাড়া থাকতে পারে না। বোঝেনই তো!’
‘তোরে তো বললামই নশুরে নিয়ে রান্নাঘরের পাশের ঘরটাতে থাকতে।’
নশুর খালা রান্নাঘরে শুয়েছিল। ঘুমাবে না ঘুমাবে না করেও সারাদিনের কর্মক্লান্ত শরীর বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। শুধু ঘুম ছিল না নশুর চোখে। একে তো দিনের বেলায় পাগলের সেই ঘটনা, তাছাড়া এর সাথে তাদের স্কুল, তার একটা হুইলচেয়ার সবকিছু জড়িত তার চোখে কি ঘুম আসে?
মাঝরাতের দিকে একটু চোখ লেগে আসতেই নশু হাজী সাহেবের ঘর থেকে ‘কে, কে’ শব্দ শুনতে পেল। সে খালার গায়ে ধাক্কা দিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, ‘ও খালা, খালা বাড়ির মধ্যে কারা জানি আইছে।’
খালা ঘুম থেকে জেগে ব্যাপার কি বুঝতে পারল। ভয়ে ভয়ে বলল, ‘চুপ করে থাক। বাড়িতে ডাকাত পড়েছে। (চলবে)
