জানো, মালেইয়্যো চাকমাদের এক ধরনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্য? এটি কোনো পূজা নয়, চাকমা সমাজে প্রাচীনকাল থেকে মালেইয়্যো অনুষ্ঠান পালিত হয়ে আসছে। এটি চাকমাদের একটি সামাজিক রীতি। এ অনুষ্ঠানে কোনো দেবতার পূজা হয় না। কোনো গৃহস্থ যদি কাজে পিছিয়ে থাকে, ইচ্ছে করলে সে পাড়ার লোকদের সাহায্য নিতে পারে। হয়তো কোনো কারণে কোনো গৃহস্থ একা জুমে ফসল লাগানো বা জুম কাটতে পারছেন না, দেরি হয়ে যাচ্ছে, ঠিক সে সময় সে কাজ না করলে ক্ষতি হবে, ঠিক সময়ে হয়তো জুমের জঙ্গল সাফ করা না হলে জঙ্গল শুকাবে না, আগুন দিয়ে তা পোড়ানোও যাবে না। ফলে সেখানে ফসল চাষ করা যাবে না অথবা চাষের পর ঠিক সময়ে ফসল না কাটলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। তখন পাড়া-পড়শির সাহায্য নিয়ে কাজে সমতা আনতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পাড়ায় গিয়ে তাকে সাহায্যের আবেদন করতে হয়। আবেদনের পরের দিন প্রতি বাড়ি থেকে দা-কুড়াল নিয়ে একজন করে তার সাথে জুমে যায় এবং তাকে সে কাজ করতে সাহায্য করে। সেজন্য কাজটা এক দিনেই সম্পন্ন হয়ে যায়। এদের কোনো মজুরি দিতে হয় না, শুধু এক বেলা খেতে দিলেই চলে। তখন এ উপলক্ষে গৃহস্থবাড়িতে একটা ছোটখাটো ভোজের আসর বসে। গৃহস্থ সচ্ছল হলে অনেকে আবেদন ছাড়াও এমনিতে তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। জুমে নিড়ানি দেয়া কিংবা ফসল কাটার সময়ও মালেইয়্যো ডাকা হয়। এটি চাকমাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। এটি তাদের ভ্রাতৃত্ববোধেরও পরিচয় বহন করে। এই প্রাচীন প্রথা চাকমাদের জাতীয় বৈশিষ্ট্যেরও পরিচায়ক। তবে এ প্রথাটিও এখন লুপ্ত হওয়ার পথে, এখন মালেইয়্যো খুব কমই দেখা যায়।
জানো, মালেইয়্যো চাকমাদের এক ধরনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্য? এটি কোনো পূজা নয়, চাকমা সমাজে প্রাচীনকাল থেকে মালেইয়্যো অনুষ্ঠান পালিত হয়ে আসছে। এটি চাকমাদের একটি...
