সাগরের পানির মধ্যেও গাছপালা আছে। তবে সেগুলো ঠিক ডাঙ্গার গাছের মতো নয়। সেসব গাছে এসব গাছের মতো ফুল-ফল ধরে না। ভাবছ, হয়তো পৃথিবীর বুকে যত গাছ আছে অত গাছ কি আর সাগরে আছে? গোনাগুনতিতে কিন্তু সাগরের গাছই বেশি। আর আমরা শ্বাসের সাথে যে অক্সিজেন নিই, তার প্রায় পঞ্চাশ ভাগ অক্সিজেনের জোগান দেয় সাগরের ওসব উদ্ভিদ। সাগরে সাধারণত দুই ধরনের উদ্ভিদ আছে। এক ধরনের উদ্ভিদের শেকড় আছে যা দিয়ে সাগরতলার মাটি আঁকড়ে ধরে। অন্য ধরনের উদ্ভিদের কোনো শেকড় থাকে না, ওরা হলো ভাসমান এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভেসে বেড়ায়। শেকড়যুক্ত গাছরা সাধারণত অগভীর সাগরে জন্মে। কেননা ওদের বাঁচতে হলে সূর্যালোক দরকার হয়। সাগরের পানিতে ৩০০ ফুট গভীরতার পর আলো পৌঁছানো মুশকিল। তাই ওসব গাছ সাধারণত সাগরের তীরবর্তী অগভীর এলাকায় জন্মে। তাই সাগরের বেশির ভাগ উদ্ভিদই জন্মে গভীর সাগরে, ওদের বলা হয় ফাইটোপ্লাঙ্কটন। এসব উদ্ভিদ সাধারণত এক কোষী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র। এক বালতি সাগরের পানিতে থাকা এসব উদ্ভিদ যদি গণনা করা হয়, দেখা যাবে সেখানেই হয়তো রয়েছে ১০ লাখ গাছ! এসব ফাইটোপ্লাঙ্কটন সাগরের পানি থেকে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের মতো খাবার খায় ও ভাসতে ভাসতে সূর্যের আলো পেয়ে বেঁচে থাকে। এসব গাছের সংখ্যা কোনো সাগরে খুব বেশি হয়ে গেলে সে সাগরের পানির রঙই বদলে যায়। কৃষ্ণসাগর বা ব্লাক সি এর অন্যতম প্রমাণ।