সাত.

তবে ওটার মাথায় তারার মতো ফুল থাকায় এবং সেই ফুলে হুল থাকায় মাঝে মধ্যে বেকায়দা লেগে যাওয়ায় কেটে কুটে যায়। মামি অবশ্য তাতে ভ্রূক্ষেপ না করেই পেটাতে থাকে আর সেই সাথে চলে গালাগালির তুবড়ি।
মারধরের পরে যদি কাটা জায়গাগুলোতে স্যাভলন না কি ক্রিম ট্রিম আছে সেটা লাগাতে দিত তাহলেও মারটা কিছুটা সহনীয় করা যেত। কিন্তু মামী সেটায় হাত দিতে দেয় না। বাবু খেলতে যেয়ে পড়ে হাঁটু সামান্য ছড়ে গেলে হাঁটুতে লাগাতে দেখে সেও আশপাশে গিয়ে দাঁড়ায় তরকারি কুটতে গিয়ে যে আঙুলটার মাথা কেটে গেছে তাতে যদি দয়াপরবেশ হয়ে লাগিয়ে দেয়। কিন্তু এই মহিলার অন্তরে, যদি সে বস্তুটা থেকে থাকে, তাতে নিজ সন্তান সংসার ছাড়া আর কারো জন্য কোনো দয়ামায়া অবশিষ্ট ্েনই। তো সে একদিন নিজেই লুকিয়ে স্যাভলন ক্রিম বেশ খানিকটা নিয়ে কাটা জায়গায় দেয়। বাসায় বাবু ছাড়া আর কেউ ছিল না। বাবু ঠিকই মামী আসলে নালিশ করে দেয়। এবং ক্রিম চুরির অপরাধে চোর ভিখারির বাচ্চা অপবাদের সাথে মামী আরেক দফা কষে পিটুনি লাগায়। সে পিটুনিতে আবার পিঠের কাছটাতে ছিলে যায় তার। কাটা ঘা সারার জন্য ক্রিম মাখতে গিয়ে যদি আবার কাটা ঘা বেড়ে যায় তো কি দরকার সে ক্রিম মাখার! ওর চেয়ে যেভাবে চলছে সেভাবেই চলুক।
পোড়া হাঁড়ির ভেতরে থেকে ছোট্ট শরীরের সবটুকু বল প্রয়োগ করে খুব মনোযোগের সাথে ঘষে ঘষে পোড়া তুলতে তুলতে রিয়াজ ভাবে ‘আহা এমন যদি হতো সে ঠিক সময় মতো ছাদ থেকে এসে দেখত দুধ একটুও পোড়েনি। শুধু দুএকবার বলক উঠেছে মাত্র। তাহলে কি ভালোই না হতো। খোদা তো সব পারে।
মামীদের ঘর থেকে টেলিফোন বাজতে থাকে। সে ট্যাপের পানি দিয়ে হাত ধোয়। পোড়া কালি হাতে আচ্ছামতো লেগে থাকায় পানিতে ওঠে না। সে আরো কচলে হাত ধুতে থাকে। ওদিকে টেলিফোনে রিং হতে থাকে। না ধরলে ‘কোন চুলোয় যাওয়া হয়েছিল শুনি’ বলে মামী বাসায় এসেই গাল পাড়বেন। (চলবে)