আট.

সে প্যান্টের পিছনে হাত ঘষে মুছতে মুছতে ডাইনিংয়ের চেয়ারে কুনুইয়ের ধাক্কা খেয়েও শেষ রিং বাজার আগেই রিসিভার তুলে কানে লাগায়।
মামী অফিস থেকে রিং করেছে। মামী শেরেবাংলানগর না কোথায় যেন আবহাওয়া অফিসে চাকরি করে। আবহাওয়া অফিসে চাকরি করে বলেই বোধ হয় যতক্ষণ বাড়িতে থাকে ততক্ষণ বাড়ির আবহাওয়া উত্তপ্ত থাকে। এমনকি মামাকেও ছেড়ে কথা কয় না। মামার উপরেও প্রায় সময় মেজাজ নিয়ে থাকে। শুধু যখন তখন তার মতো মারতে পারে না। তবে মুখে কমে ছাড়ে না। মামা মামীর মতো চাকরি না করে কি যেন গার্মেন্টেসের ঝুট ব্যবসা করে এবং তাতে লস খায় বলে নীরবে মামীর গালি হজম করে। বৌয়ের টাকায় চলতে গেলে বোধ হয় একটু-আধটু গালিটালিও খেতে হয়। পেটে খেলে পিঠে সয়, না কি যেন বলে।
‘রিং হলেই সাথে সাথে দৌড়ে এসে ফোন ধরতে পারিস না ভিখারির বাচ্চা। থাকিস কোথায়? পড়ে পড়ে ঘুমাস নাকি?’
সে মিন মিন করে বলে ‘আমি দুধ জ্বাল দিচ্ছিলাম।’
‘দুধে ঠিকঠাক মতো পানি দিয়েছিস তো? মনে আছে তো বলেছিলাম, এক লিটার দুধে দু’গ্লাস পানি দিতে। দিয়েছিস তো?’
‘জ্বে মামী।’
‘শোন, বাবু স্কুল থেকে এলেই ওকে গরম গরম দুধ খেতে দিবি এক গ্লাস। খেতে না চাইলে জোর করে খাওয়াবি। বেশি জোরাজুরি করলে এক চামচ চিনি মিশিয়ে দিবি। স্রেফ এক চামচ। এর এক ফোঁটাও বেশি দিলে কিন্তু তোকে আমি আস্ত রাখব না। বাবুর জন্য হলুদ মরিচ ছাড়া যে সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করতে বলেছিলাম করেছিস?’
‘জ্বে না। এখনই করব।’
‘নবাবের বাচ্চা তাহলে এতক্ষণে করছিলিটা কী? বসে বসে নিশ্চয় টিভি দেখছিলি? সত্যি কথা বল, টিভি খুলেছিলি নাকি?’
‘না মামী। ছাদে কাপড়চোপড় শুকাতে দিতে গেছিলাম।’
(চলবে)