এগারো.
বাবু রান্নাঘরে এসে সবজি নিয়ে লুকোচুরি করে তার কাজের ব্যাঘাত ঘটাতে থাকে। সে কিছুই না বলে ওগুলো খুঁজে এনে আবার কুটতে বসে।
এবার বাবু কুটে রাখা কুমড়োর গামলা নিয়ে কাটা কুমড়োগুলো ছড়াতে থাকে। তার মেজাজ চড়তে থাকলেও সে কিছুই বলে না। আস্তে আস্তে টুকরোগুলো আবার গামলায় তুলে রাখে। গরিব মানুষের রাগ থাকতে নেই। আর থাকলেও তা দেখাতে হয় না।
সে বাবুকে টিভি ছেড়ে দিয়ে কার্টুন দেখতে অনুরোধ করে। এই সময়টায় টম অ্যান্ড জেরি হওয়ার কথা। বাবু তার কথায় কান দেয় না। টম অ্যান্ড জেরি দেখতে দেখতে বাবুর মুখস্থ হয়ে গেছে। ওর মধ্যে আর নতুনত্বের কিছু নেই। বরং রিয়াজের তরকারি কোটায় ব্যাঘাত ঘটানোতে একটা নতুনত্ব আছে। উত্তেজনা আছে।
রিয়াজের মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সে বাবুকে কষে একটা চড় লাগাতে চাইলেও সেটা দমন করে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে যায়। আর তাতেই বিপত্তি ঘটে। ননীর পুতুলটা সামান্য ঠেলাতেই হুড়মুড় করে দেয়ালের সাথে গিয়ে ধাক্কা খায়। মাথায় টাথায় কোথাও একটু লাগতে পারে। কিন্তু বাবু এমন জোরে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে থাকে যেন মনে হতে পারে, কেউ তাকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে। সে উঠে গিয়ে বাবুর গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করার চেষ্টা করে। তাতে বিচ্ছুটা আরো ক্ষেপে গিয়ে তাকে দেয়ালের গায়ে চেপে ধরে তার মাথা ঠুকে দিতে থাকে। বাবুর স্বাস্থ্য তার চেয়ে যথেষ্ট ভালো হওয়ায় সে নীরবে সেটা সহ্য করে। তাছাড়া এভাবে যদি ওর রাগ একটু কমে তো ভালো। কান্নাটা থামলেই হয়। এখনি মামা এসে পড়বেন। এসে যদি ওকে কান্নাকাটি করতে দেখেন তাহলে সেটা ভালো হবে না। যদিও মামা গায়ে হাত তোলেন খুবই কম। তবে সেই কম দিনের একদিন আজকে না হয়ে যায়।
দেয়ালের গায়ে মাথা ঠুকেই বাবু ক্ষান্ত হয় না। তার গায়ে দলা দলা থুতু ছিটাতে থাকে। এই জিনিসটায় তার খুব ঘেন্না। অন্য সময় হলে পালিয়ে রান্না ঘরে এসে রান্না ঘরের দরজা আটকে থুতু ছিটানোর হাত থেকে বাঁচত। আজ সেটা করে না। রাগ কমাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সারা গায়ে থুতু মাখতে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে থুতু ছিটানো যায় না বলে বাবুর কান্না থেমে যায়। (চলবে)
এগারো.বাবু রান্নাঘরে এসে সবজি নিয়ে লুকোচুরি করে তার কাজের ব্যাঘাত ঘটাতে থাকে। সে কিছুই না বলে ওগুলো খুঁজে এনে আবার কুটতে বসে। এবার বাবু কুটে...
