আজ তোমরা জানবে ভিসবি সম্পর্কে। ভিসবি’র নাগরিক, এদের সুন্দর কর্মকাণ্ড আর মধ্যযুগের পুরোনো দালানের জন্য একে বলা হয় জীবন্ত বিশ্ব ঐতিহ্য। লিখেছেন লোপাশ্রী আকন্দ
ভিসবি কী? সুইডেনের একটি পুরোনো শহর। বাল্টিক সাগরের গটল্যান্ড দ্বীপে এ শহরের অবস্থান।
জানো, ৫০০ বছর আগে শহরটি ছিল হ্যানসিটিক লিগের কেন্দ্র? হ্যানসিটিক লিগ বলতে বোঝায়, উত্তর জার্মানি ও এর আশপাশের ৩০টি স্বাধীন শহরের একটি কনফেডারেশন। এটি গড়ে উঠেছিল অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য।
ভিসবি’র নাগরিক, এদের সুন্দর কর্মকাণ্ড আর মধ্যযুগের পুরোনো দালানের জন্য একে বলা হয় জীবন্ত বিশ্ব ঐতিহ্য। এটি দারুণভাবে সংরক্ষিত একটি মধ্যযুগের শহর। এর রয়েছে পাথর বাঁধানো সরু গলি। এখানে রয়েছে অনেক গির্জা ও ধর্মাশ্রমের ধ্বংসাবশেষ। এটি গোলাপ এবং ধ্বংসাবশেষের শহর, এক অনুপম মায়াজাল।
১৯৯৫ সালে ভিসবি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের মর্যাদায় ভূষিত হয়। শহরটির তুলনাহীন সাংস্কৃতিক মূল্য অক্ষুণ্ন রাখার জন্য জোর প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির মতে, ভিসবি উত্তর ইউরোপের দেয়ালঘেরা হ্যানসিটিক শহরের একটি সুন্দর উদাহরণ, যার রয়েছে সংরক্ষিত অপার নগরদৃশ্য, মূল্যবান ভবন। এগুলোর গঠন ও কাজে গুরুত্বপূর্ণ মানববসতির দৃষ্টান্ত প্রতিফলিত হয়েছে।
পাথরের তৈরি স্থাপত্যশিল্প ভিসবিকে করেছে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। মধ্যযুগের পাথরের তৈরি ২০০ দালান এখানে সংরক্ষিত করা হয়েছে, যেগুলো প্রথম দিককার গথিক স্থাপত্যবিষয়ক সুন্দর উদাহরণ।
ফিসকারগ্রান্ড ভিসবির সবচেয়ে সরু জনপ্রিয় গলিগুলোর একটি। এখানে রয়েছে গোলাপ এবং ছোট ছোট বাড়ি। এখানকার শান্তসমাহিত গলিতে অনেক চলচ্চিত্রের চিত্রায়ন করা হয়েছে।
ভিসবি ১২ ও ১৩ শতকে বাল্টিক সাগর এলাকার একটি সমৃদ্ধ শহরে পরিণত হয়। এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় প্রতিরক্ষা দেয়াল। এ প্রতিরক্ষা দেয়ালে রয়েছে ৫০টি বুরুজ। আর এ দেয়াল ঘিরে আছে পুরোনো পাথরের বাড়ি আর গির্জাগুলোকে। এ বৃত্ত দেয়াল ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার লম্বা এবং এর উচ্চতা ১১ মিটার। এ দেয়ালের ভেতরে ২৩ গির্জা ও ধর্মাশ্রমের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।
ভিসবি’র দেয়ালের ভেতরের ছোট ছোট দোকান, রেস্তোরাঁ, পানশালা ও ক্লাব খুবই আকর্ষণীয়। এগুলো সারা বছরই খোলা থাকে। এখানকার মধ্যযুগের একটি হোটেল পর্যটকদের কাছে টানে।
-ওয়েবসাইট অবলম্বনে