ষোলো.

সে ঘরের ভেতর থেকে দরজা লক করে দেয়। তারপর ড্রয়িংরুমে ঢুকে সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে আয়েশ করে। শুধু শুয়ে আয়েশ হয় না, যদি না টিভি চলে। টিভি ছাড়তে গিয়েও সে একটু দেরি করে। কিছু একটা ফেলে গেছে ভেবে ওরা সেটা নিতে যেকোনো মুমূর্তে চলে আসতে পারে। তখন টিভির শব্দ শুনলে খবর আছে। তার চেয়ে আরেকটু দেরি করা যাক। ওরা নিরাপদ দূরত্বে গেলেই তবে টিভি ছাড়া যাবে। একটু অপেক্ষা করতে তো ক্ষতি কিছু নেই। বরং অপেক্ষাতে সবসময় লাভই হয়।
কিন্তু অপেক্ষাতে রিয়াজের তেমন লাভ হলো না। সবসময় ক্লান্ত থাকে বলে কোথাও একটু গা এলিয়ে দিলেই তার ঘুম এসে যায়। টিভি ছাড়ার অপেক্ষাতে থাকতে গিয়ে তার ঘুম এসে যায়। মাগরিবের আজানের শব্দে তার ঘুম ভাঙে।
ঘুম ভাঙতেই সে এক ধরনের ঘোরের মধ্যে থাকে। সন্ধ্যার আবছা অন্ধকারে তার কাছে সব এলোমেলো লাগতে থাকে। টিভি দেখার কথা তার মনে পড়ে যায়। সে আবছা অন্ধকারের মধ্যে পায়ে পায়ে হেঁটে টেলিভিশনের দিকে যায়। পুরোনো আমলের টেলিভিশন হওয়ায় এর সব কিছুই নব ঘুরিয়ে করতে হয়। সে টিভি অন করে নব ঘুরিয়ে চ্যানেল চেঞ্জ করে কার্র্টুনের চ্যানেল খুঁজতে গিয়েই হঠাৎ বিপত্তি ঘটে যায়। কোথায় যেন কট করে একটা শব্দ হয়। আর চ্যানেল ঘুরানোর কালো বৃত্তাকার প্লাস্টিকের নবটা তার হাতের সাথে চলে আসে। খুলে গেছে ভেবে সে জায়গামতো লাগানোর চেষ্টা করতে থাকে। কয়েকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে সে বুঝতে পারে জিনিসটা ভেঙে গেছে। ভয়ে তার গা হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে আসতে থাকে। মারের হাত থেকে তাহলে কোনোমতেই রেহাই পাওয়া যাবে না। সে তড়িঘড়ি করে ঘরের লাইটগুলো জ্বালায়।
টিভিটা নির্দিষ্ট একটা চ্যানেলে চলছে। সে আলোয় আরেকবার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয় না। ওটা লাগে না। টিভির চ্যানেলও চেঞ্জ হয় না। কি আর করা ভেবে সে নবটা ও জায়গায় আলতো করে লাগিয়ে রেখে টিভিটা অফ করে রাখে। (চলবে)