আঠারো.
সে আস্তে আস্তে নবে হাত রেখে ঘোরায়। জোরে চাপ দিতেই হাতে একটু বাধা পেয়ে তার মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে। কিন্তু চাপ বাড়াতেই বুঝতে পারে কিছুই ঠিক হয়নি। সেটা আগের মতোই হাতে খুলে আসে।
বিরক্ত রিয়াজ মেজাজ খারাপ করে সোফায় বসে বসে টিভির নির্দিষ্ট হয়ে যাওয়া চ্যানেলটাই দেখতে থাকে। এই চ্যানেলে শুধু খবর হয়। দেখার কিছুই নেই। তবুও সময় কাটাতে হবে এবং মনে মনে মার খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
রাত বাড়তে থাকে। সাথে সাথে ভয়ও। অদৃশ্য সেই জিনিসটা যায়নি সে বুঝতে পারে। ঘরের মধ্যেই আছে। এখন বোধ হয় সোফার এককোণে বসে বসে টিভিতে খবর দেখছে।
কমে আসে বৃষ্টি। সে আবার উঠে নবটা ঠিক হয়েছে কিনা দেখে টিভির চ্যানেল চেঞ্জ করে কার্টুন চ্যানেলে আনতে যায়। অদৃশ্য শক্তি সেটা ঠিক করতে পারেনি। খবরই দেখতে হবে।
অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা এখনো আছে কিনা দেখতে সে উঠে রান্নাঘরে যায়। নাহ দুধ তো ঠিকই আছে। অদৃশ্য হয়ে যায়নি। দুধটা সত্যিকারের দুধ কিনা জানতেই সে একটু দুধ খেয়ে দেখে। নাহ, স্বাদও তো সত্যিকারের দুধের মতো।
রাত ১০টার দিকে তার ঝিমুনির মতো আসতে থাকে। এতক্ষণে তো ওদের ফেরার কথা। সে একটু উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়ে। আর মামা মামী এখনই ফিরবে ভেবে কী কী কাজ এখনো করা হয়নি সেটা সে মনে করার চেষ্টা করে। টুকটাক সব কাজই তো সে করে রেখেছে বলে তার মনে হয়। আর একটা অতিরিক্ত কাজ সে করে রেখেছে। টিভির নব ভেঙেছে। এসেই টিভি ছাড়বে এবং তার ওপর দিয়ে একটা ঝড় বয়ে যাবে।
সে জানালাগুলো বন্ধ করতে গিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। পাশের দোতলা বিল্ডিয়ের ছাদে কাপড় ভিজছে দেখেই তার মনে পড়ে তাদের ছাদেও কাপড় মেলে দেয়া। মামার গোসলের কাপড়। নিশ্চয় বৃষ্টিতে ভিজে চুপচুপে হয়ে আছে। তবুও এখন তুলে এনে ফ্যানের নিচে দিলে হয়তো কিছুটা শুকাতে পারে। (চলবে)
