একুশ.
কিন্তু সে এত রোগাপটকা আর পরীর সাইজটা ঠিক বড় মানুষের মতো বলেই তার কিছুই হয় না। তাছাড়া তারা মাটির এত কাছাকাছি চলে এসেছে যে এখান থেকে পড়ে গেলে আঘাত পেতে পারে কিন্তু মারা যাবে না।
তাকে পিঠ থেকে মাটিতে নামিয়ে হাফ ছাড়ার ভঙ্গিতে জোরে আটকে রাখা শ্বাস ছেড়ে পরী তার দিকে ফিরে দাঁড়ায়। সে তাকিয়ে দেখে যা ভেবেছিল তাই। ছাদের উপরে দেখা সেই অল্পবয়স্কা পরীটাই। তবে এখন মুখোমুখি দাঁড়ানোতে সে স্পষ্ট দেখতে পায় পরমাসুন্দরী পরীটিকে। পরনে লম্বা ঝলমলে সাদা ও গোলাপিতে মেশানো পোশাক। ডানা দুটোয় পেজা তুলোর মতো পালকের সমারোহ, ধবধবে সাদা। হাতের কবজি পর্যন্ত সাদা পোশাকে ঢাকা। পায়ে গোলাপীরঙা জুতো। মাথাভর্তি সোনালী চুলের রাশি গোলাপি ফিতায় বাধা। পরমা সুন্দরী পরীর বড় বড় গভীর নীল চোখের দিকে তাকিয়ে রিয়াজ কেমন যেন হতভম্ব হয়ে যায়। বিস্ময়ে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। কী করবে সে বুঝে উঠতে পারে না। অবশ্য সে কিছু করার চিন্তাও করে না। পরী যখন তাকে নিয়ে এসেছে তখন যা করার পরীই করবে। তার দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কাজ কি?
তার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসে পরী। কারোর মিষ্টি হাসির উত্তরে মিষ্টি করে হাসতে হয়। মামীর গঞ্জনা শুনতে শুনতে সে বোধ হয় মিষ্টি করেও হাসতে ভুলে গেছে। তবুও চেষ্টা করে দেখে।
পরী মিষ্টি হাসিটা ধরে রেখে বলে ‘পড়ে যাওয়ার সময় তোমাকে দেখে হালকা পলকা মনে হলো। কিন্তু তুমি তো খুব একটা হালকা পলকা নও। তোমার হাড়ের ওজন আছে দেখছি। ভারে আমার পিঠ ব্যথা হয়ে গেছে। ডানার গোড়াও ব্যথায় টনটন করছে।’ পরী হাসির রেশ ধরে রেখে কথা শেষ করে।
রিয়াজ ভাবে পরীদের কড়া কথা বলার সময়ও বোধ হয় মুখ হাসি হাসি রেখে বলার সিস্টেম। সেজন্য যাকে বলা হচ্ছে তার খুব একটা লাগে না।
(চলবে)
