একত্রিশ.

তারপর হাতটা সরিয়ে নিয়ে বলে, ‘যাই বাছা, তোমার বুকের সব খারাপ দিক মন্দ অংশটুকু বের করে নিয়ে আমি সে জায়গাটুকু ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণ করে দিলাম। এখন থেকে আর তোমার জীবনে কখনো ভালোবাসার অভাব হবে না। মানুষের প্রতি মমত্ববোধ যতটুকু তুমি দেবে তার সহস্রগুণ হয়ে তা আবার তোমার কাছে ফিরে আসবে।’
ডাইনি এবারে তার মুখের খুব কাছে ঝুঁকে এসে বলে, ‘আরেকটা জিনিস তোমাকে দিয়ে যাচ্ছি আমি। তোমার জ্ঞান বুদ্ধি বিবেচনা এসব বাড়িয়ে দিচ্ছি।’ বলে ডাইনি তার কপালের ঠিক মাঝখানে, যেখানে মেয়েরা টিপ পরে, সেখানে জীর্ণশীর্ণ একটা আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দেয়। সাথে সাথে ডাইনির আঙুলের মধ্য থেকে একটা তীব্র রূপালি আলোকরশ্মি রিয়াজের কপাল আলোকিত করে দেয়। রিয়াজ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। তার চোখ ধাঁধিয়ে যায়।
আলোটা চলে গেলে ডাইনি তার হাত সরিয়ে নিয়ে ফিসফিস করে আপনমনে বলে ‘সত্যি বলতে কি, আমি যা যা দিচ্ছি সবই আছে তোমার মধ্যে। আমি শুধু সেগুলোর উপর আলোকপাত করে তোমাকে সেই সম্বন্ধে সচেতন করে গেলাম। তোমার বুদ্ধি বিবেচনা বেড়ে যাওয়ায় আস্তে আস্তে তুমি আমার কথাগুলোর অর্থ বুঝতে পারবে। আমি যাই বাছা। ওরা অধৈর্য হয়ে পড়েছে। মানুষের মতো ডাইনিদেরও ধৈর্য কম। কিন্তু বাছা একটা কথা সবসময় মনে রেখো কোনো কিছুতে ধৈর্যহারা হলে চলবে না। একমাত্র ধৈর্যই তোমাকে নিয়ে যেতে পারে সাফল্যের শেষ সিঁড়িতে।’
ডাইনি বুড়ি তার বুকের কাছ থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে পিছনের দিকে অপেক্ষমাণ ডাইনিদের দিকে হাত ইশারা করে কি যেন দেখায়। (চলবে)